দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাপপ্রবাহ চলছে গোটা ইউরোপ জুড়েই। এই তাপপ্রবাহের কারণ সাহারা মরুভূমি থেকে আসা অতি গরম হাওয়া। প্রতি বছর জুলাই ও অগস্টে যে ধরনের গরম পড়ে, এ বার জুনেই সেই তাপমাত্রা ছুঁতে চলেছে ইউরোপ।
আবহবিদেরা বলছেন, ফ্রান্স, স্পেনের পাশাপাশি বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, লুক্সেমবুর্গ, নেদারল্যান্ডস-এও মারাত্মক গরম পড়বে।
ফ্রান্সের বেশ কিছু জায়গায় বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে উঠবে। ইতিমধ্যে কচিকাঁচাদের অসুস্থ হয়ে পড়া ঠেকাতে বেশ কিছু জায়গায় স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে ফ্রান্স। প্যারিসের দক্ষিণে অনেক স্কুলেই এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে স্কুল বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই। প্যারিসে পুরনো গাড়ি রাস্তায় বার করা নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, ওই সব গাড়ি থেকে যে পরিমাণ দূষণ ছড়ায়, তাতে স্মগ তৈরি হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। জায়গায় জায়গায় কুল রুম খোলা হয়েছে, রাস্তার অনেক জায়গায় চলছে ফোয়ারা, যাতে শরীর গরম হয়ে গেলে একটু ভিজিয়ে নেওয়া যায়। ফ্রান্সের জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০০৩-এর ২১ জুন। সেদিন তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সেই ২০০৩ সালেরই আগস্টে, ৪৪. ১ ডিগ্রি। এ বার কি তবে সেই রেকর্ড ভাঙবে ফ্রান্স?
উত্তরপূর্ব স্পেনের অনেক জায়গায় শুক্রবার ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে দিনের তাপমাত্রা। এই কারণে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। স্পেনের আবহবিদেরা বলেছেন ‘ইনফার্নো’ আসছে। জার্মানি ও ইতালিতে অবশ্য এখনও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পেরোয়নি। তবে সেখানেও যথেষ্ট গরম। অন্য দিকে সুইজ়ারল্যান্ডে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি হলেও স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে না। কারণ, বাচ্চা বাড়িতে থাকলে মা-বাবাকেও ছুটি নিতে হবে। তা সম্ভব নয়।
জার্মানির পটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের এক কর্তা টুইট করে বলেছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর জুনের তাপমাত্রা আরও দু ডিগ্রি বেশি থাকার রেকর্ড হবে।
ছবি সৌজন্য: এএফপি