দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও ফুটিফাটা খরা, তো কখনও সর্বস্ব ভাসিয়ে দেওয়া বন্যা। কখনও আগুন লেগে ছারখার মাইলের পর মাই বনভূমি। কখনও আবার হু হু করে গলে শেষ হয়ে যাচ্ছে মেরুপ্রদেশের বরফ। কলকারখানার ঘন ধোঁয়ায় শ্বাস বুজে আসছে পশুপাখিদের। অরণ্য কেটে সাফ করে, বন্যপ্রাণকে ঘরছাড়া করে কংক্রিটের ভিড় বাড়ানো তো আছেই। সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত এই বসুন্ধরা। মানুষের আগ্রাসনে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে প্রকৃতির নিরাপত্তা, পরিবেশের প্রাণ।
সেই নিয়েই লড়ে চলেছেন কেউ কেউ। এ লড়াই সহজ নয়। একদিকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার জোরে প্রকৃতিকে আগ্রাসন করার মনোভাব, অন্যদিকে সর্বশক্তিমান প্রকৃতি। এই দুইযের মাঝে যাঁরা সামিল পরিবেশ রক্ষার অসম যুদ্ধে তাঁদের জন্যই হয়তো আজকের এই বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে ফিরে ফিরে পাই আমরা। গত কয়েক দশক ধরে পরিবেশকে বাঁচানোর প্রয়োজনটি অনুধাবন করে তা নিয়ে গলা তুলেছেন তাঁরা। চোখে চোখ রেখেছেন রাষ্ট্রের। গ্রেটা থুনবার্গ তাঁদেরই একজন। পৃথিবীকে বাঁচাতে স্কুল কামাই করতে শুরু করেছিল সুইডিশ এই কিশোরী। এখন লক্ষ মানুষ পথে নামেন গ্রেটারই কথায়।
কিন্তু গ্রেটা তো একা নন। লড়ছেন আরও অনেকে। আজ, ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তাঁদেরই কয়েক জনকে চিনে নেওয়া যাক।
ইনডিয়া লোগান-রিলে
নিউজ়িল্যান্ডের এই তরুণী জল-জঙ্গলের মানুষের অধিকার নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় উপজাতির মানুষদের সচেতন করছেন তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে। প্রতিনিয়ত বোঝাচ্ছেন, নগরায়নের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে মানুষগুলিকে। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে, আর তার জন্য প্রয়োজনে সম্মুখসমরে নামতে হবে। ছিনিয়ে নিতে হবে পরিবেশের অধিকার। উপজাতির মানুষগুলির দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জেও পৌঁছেছেন তিনি। তাঁদের নিঃশব্দে এগিয়ে দিচ্ছেন পরিবেশ রক্ষার দাবিতে।

রিধিমা পাণ্ডে
হরিদ্বারের মেয়ে রিধিমা। ২০১৩ সালে যখন বন্যায় ভেসে গেছিল উত্তরাখণ্ড, তখন সে ১১ বছরের বালিকা। কিন্তু এই আচমকা বন্যা, এত মানুষের ঘর হারানো, এত ক্ষয়ক্ষতি তাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এর কারণ বুঝতে গিয়ে সে বুঝেছিল, প্রকৃতির প্রতি মানুষের অসহনীয় দূরাচারই এর কারণ। সেই শুরুষ মানুষ-প্রকৃতির লড়াইয়ে প্রকৃতির পক্ষ নিল সে। সারা দেশের বদলে যাওয়া জলবায়ু বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়াল সর্বশক্তি দিয়ে। রাষ্ট্রপুঞ্জে মামলা দায়ের করল শিশু অধিকার নিয়ে। বিশ্বের আরও ১৫ জন ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ছিল তার সঙ্গে।

নীনা গুয়ালিঙ্গা
সারাটা জীবন পরিবেশের জন্যই লড়ে গেছেন নীনা। ইকুয়েডরের এই মহিলা মাত্র ১৮ বছর বয়সে আদিবাসীদের মানবাধিকার নিয়ে আদালতে লড়েছিলেন তিনি। জিতেওছিলেন। প্রতিপক্ষ ছিল রাষ্ট্রের তৈল উত্তোলন নীতি। আমাজন অরণ্যের বুকে তাদের প্রবেশ আটকে দিয়েছিল নীনার এই জয়। সেই শুরু। তার পরে আমাজন অরণ্যের মানুষরা বারবার গলা তুলতে পেরেছেন তাঁদের দাবি ও অধিকার নিয়ে।

জেরোম ফস্টার ২
জলবায়ু রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে চলেছেন এই মার্কিন তরুণ। তাঁর মূল অস্ত্র তাঁর কলম। তাঁর একের পর এক তীব্র ও তীক্ষ্ণ রিপোর্টিং বারবার ধারালো ফলার মতো প্রশ্ন তুলেছে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। 'দ্য ক্লাইমেট রিপোর্টার' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক তিনি। সাদা চামড়ার দেশে তিনি বারবার গলা তুলেছেন প্রতিটি আদিবাসী মানুষের এবং প্রকৃতির হয়ে।

ডেভিড উইকার
ইতালির তুরিন প্রদেশের এই তরুণ সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে, জলবায়ুকে যেন দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে ভাবা হয়। তিনি বারবার দেশের ক্ষমতাশালী সম্প্রদায়কে ধাক্কা দিয়েছেন, কেন তাঁরা বিশ্বপরিবেশের হয়ে লড়ছেন না! তাঁদের ক্ষমতা ও অর্থকে কেন কাজে লাগাচ্ছেন না আরও বড় মাপে! তিনি আন্তর্জাতিক চুক্তি তৈরি করতে চান পরিবেশ রক্ষায়। চান পৃথিবীর সমস্ত দেশ অঙ্গীকার করুক প্রকৃতিকে ধ্বংস করবে না তারা।
