দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর বলেছিলেন, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-এর উস্কানিতেই কৃষকরা শুক্রবার দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অমরিন্দর সিং বললেন, হরিয়ানায় কৃষকদের যেভাবে আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল, এরপর খট্টর ফোন করলেও তিনি ধরবেন না।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী খট্টর সম্পর্কে বলেন, "তিনি জানেন না কোন কথা বলা উচিত, কোনটা বলা উচিত নয়। তাই তিনি এই ধরনের কথা বলছেন। সকলেরই প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। তাই পাঞ্জাব সরকার কৃষকদের আটকায়নি।" অমরিন্দর সিং পাল্টা প্রশ্ন করেন, "হরিয়ানা সরকার কৃষকদের আটকেছে কেন? তারা মিছিলের ওপরে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে কেন? জল কামানই বা ব্যবহার করেছে কেন? আমরা যখন কৃষকদের আটকাইনি, দিল্লিতে যখন তাঁদের আটকানো হয়নি, তখন হরিয়ানায় মিছিলকে বাধা দেওয়া হল কেন?"
এর পরেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি অসাধুতা পছন্দ করি না। খট্টর ১০ বার ফোন করলেও আমি ধরব না।"
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "পাঞ্জাবের কৃষকরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু হরিয়ানার কৃষকরা এসব থেকে দূরে রয়েছেন। হরিয়ানার কৃষক ও পুলিশ যে সংযম দেখিয়েছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। বিক্ষোভের জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী। অমরিন্দর সিং-এর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন।"
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কৃষি বিলের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজ্যের কৃষকরা 'দিল্লি চলো' অভিযান করেন। পাঞ্জাব বাদে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ থেকেও বহু সংখ্যক কৃষক পায়ে হেঁটে ও ট্র্যাক্টরে চড়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, যতদিন নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা হচ্ছে, তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রথমে কৃষকদের বলে দেওয়া হয়েছিল, রাজধানীতে মিছিল করতে দেওয়া হবে না। কারণ করোনা অতিমহামারীর মধ্যে বড় সংখ্যক মানুষের সমাবেশ হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মিছিল যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদ সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছিল।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, রাজ্যে কোথাও বড় সমাবেশ করা যাবে না। তারপর দু'দিন ধরে পাঞ্জাবের সব বাসের যাওয়া-আসা বন্ধ করে দেয় হরিয়ানা সরকার। বহু রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কৃষকরা ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। পুলিশ তাঁদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। বুধবার রাতে কারনাল ও সোনেপতে কৃষক মিছিল আটকানো হয়েছিল। ঠান্ডার মধ্যে পুলিশ তাঁদের দিকে জলকামান থেকে জল ছোড়ে। এদিন সকালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে বলেন, কেন্দ্রের তিনটি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। আইনগুলি প্রত্যাহার করার বদলে কৃষকদের শান্তিপূর্ণ মিছিলকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা অন্যায়।