দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চড় মারার কথা বলে মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানে। বুধবার তিনি বলেন, “উদ্ধবও একসময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চটি দিয়ে মারার কথা বলেছিলেন। আমি তাঁর থেকে আলাদা কিছু বলিনি।” এই প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা মহারাষ্ট্রকে পশ্চিমবঙ্গ বানাতে দেব না। উদ্ধব ঠাকরের সরকার এখানে কয়েকদিনের অতিথি মাত্র।”
গত সোমবার রায়গড়ে বিজেপির 'জন আশীর্বাদ যাত্রা'-র সময় রানে দাবি করেন, স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দেওয়ার সময় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে মাঝপথে একবার ভাষণ থামিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তিনি এক সহকারীর কাছে জেনে নেন, ভারত কত সালে স্বাধীনতা পেয়েছিল। তারপর ফের ভাষণ শুরু করেন।
এরপরেই রানে বলেন, "লজ্জার ব্যাপার হল, মুখ্যমন্ত্রী জানেন না কোন সালে ভারত স্বাধীনতা পেয়েছিল। তাঁকে ভাষণ থামিয়ে সালটা জেনে নিতে হয়েছিল। আমি সেখানে থাকলে উদ্ধব ঠাকরেকে চড় মারতাম।"
এই মন্তব্যের পরেই মহারাষ্ট্র জুড়ে শিবসেনা সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মঙ্গলবার শিবসেনা সদস্যরা মিছিল করে মুম্বইতে রানের বাড়ির দিকে এগোতে চেষ্টা করেছিলেন। তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। দু'পক্ষে মারামারি শুরু হয়। দুই দলই পরস্পরের দিকে পাথর ছোড়ে। পুলিশ এসে গোলমাল থামানোর চেষ্টা করে। শেষে শিবসেনা সমর্থকরা জুহুতে রানের বাড়ির বাইরে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন। এদিন সকালে নাগপুরে বিজেপি অফিসে একদল শিবসেনা সমর্থক পাথর ছোড়েন।
মঙ্গলবার রানেকে রায়গড়ের এক আদালতে পেশ করা হয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক এস এস পাতিল বলেন, “আপনাকে গ্রেফতার করা আইনসঙ্গত।” তাঁকে ১৫ হাজার টাকার জামিনের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। আগামী ৩১ অগাস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর রানেকে পুলিশের সামনে হাজির হতে হবে। বিচারক রানেকে সাবধান করে বলেন, তিনি যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ না করেন। সেইসঙ্গে এই মামলার প্রমাণপত্র লোপাট করার চেষ্টা না করেন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তিকে হুমকি না দেন।
গ্রেফতার হওয়ার আট ঘণ্টা পরে জামিন পান রানে। মহারাষ্ট্র পুলিশ আদালতে আবেদন জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সাতদিন জেলে রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু বিচারক তাঁকে আটক রাখতে অস্বীকার করেন।