দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েতের আহ্বান উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলা থেকে গাজিপুরে আসছিলেন কৃষকরা। পুলিশ ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকে দিয়েছে। এই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। আন্দোলনকারীদের প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছে যোগী প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতেই গাজিপুর থেকে অবস্থান তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কৃষকদের একাংশ ধরনাস্থল ছেড়ে চলেও গিয়েছিলেন।
এরপর টিকায়েতের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দেখা যায়, কৃষক নেতা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলছেন, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়াবেন। তখন উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার নানা জায়গা থেকে কৃষকরা ফের গাজিপুরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। বিজনৌর থেকে যাতে কেউ যেতে না পারেন, সেজন্য পুলিশ দিল্লিগামী প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। জেলার পুলিশ প্রধান ধরমবীর সিং বলেন। "গাজিপুরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেখানে কোভিড বিধিও জারি আছে। গাজিপুর-দিল্লি সীমান্তে ধরনাস্থলকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। যদি কোনও কৃষক ফোর হুইলার, টু হুইলার অথবা ট্র্যাক্টর নিয়ে সেখানে যেতে চেষ্টা করেন, তাহলে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব।"
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা যায়, বিজনৌর জেলার চাষিরা গাজিপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, যে কোনও মূল্যে গাজিপুর যাবেনই।
শুক্রবার সিংঘু ও টিকরিতে কৃষক জমায়েত থেকে গণ্ডগোলের খবর আসে। সিংঘুতে ২০০ জনের একটি দল, বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা, তারা আচমকা পাথর ছুড়তে শুরু করে আন্দোলনস্থলে। ভাঙচুর করা হয় কৃষকদের তাঁবু। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা লড়তে থাকেন কৃষকরাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। সামাল দিতে নামে পুলিশ ও ব়্যাফ বাহিনী। কৃষকনেতারাও শান্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। কিন্তু অভিযোগ, মারমুখী জনতা পরোয়া করেনি কোনও কিছুকেই। কৃষকদের এলাকা ছেড়ে দিতে হবে এই দাবি করে ব্যাপক মারধর, ভাঙচুর চালায় তারা।
কিছু পরেই টিকরি সীমান্তেও আচমকা একদল লোক হানা দিয়ে কৃষকদের হুমকি দেয় জায়গা খালি করে দেওয়ার। তাদের বলতে শোনা যায়, জাতীয় পতাকার অবমাননা তারা মেনে নেবে না।
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে গত দু'মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ অবস্থান চালাচ্ছেন কৃষকরা। গত মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কৃষকদের ট্র্যাক্টর র্যালিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানীর পরিস্থিতি। ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়ায় এলাকায়। ওইদিন বিক্ষোভকারীদের একাংশ লালকেল্লায় ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। 'নিশান সাহিব' নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার ভিতরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করে।