দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর 'রেপ ইন ইন্ডিয়া' মন্তব্যের জেরে উত্তাল সংসদ। স্মৃতি ইরানি থেকে শুরু করে বিজেপির একাধিক নেতা-নেত্রী দাবি করেছেন, শাস্তিযোগ্য মন্তব্য করেছেন রাহুল, ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে। ইতিহাসে প্রথম কোনও নেতা অমন লজ্জাজনক মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাহুল গান্ধী অবশ্য কিছুতেই রাজি নন ক্ষমা চাইতে। তাঁর সাফ কথা, তিনি কিছু অন্যায় বলেননি।
লোকসভায় যখন রাহুলের মন্তব্য নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন স্মৃতি ইরানি ও অন্যান্য বিজেপি নেতা, তখন রাহুলকে উত্তর দেওয়ার অনুমতি দেননি স্পিকার। পরে লোকসভার বাইরে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, "ক্ষমা আমি চাইব না। বড় জোর স্পষ্ট করতে পারি আমার বক্তব্য। আমি বলেছি, প্রধানমন্ত্রী 'মেক ইন ইন্ডিয়া'র কথা বলতে থাকেন সব সময়। কিন্তু এদেশের মানুষ যখন খবরের কাগজ খোলেন রোজ, তাতে এই বিষয়ে কিছুই দেখতে পান না। তার বদলে কী দেখেন? রোজ একাধিক ধর্ষণের খবর কাগজে দেখি আমরা।"
এর পরে রাহুল গান্ধী একটি টুইটও করেন। তিনি লেখেন, "ক্ষমা তো মোদীর চাওয়া উচিত। প্রথমত, উত্তর-পূর্ব ভারতকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, ভারতের অর্থনীতিকে পুরো ধ্বংস করে দিয়েছেন। তৃতীয়ত, এই বক্তব্যের জন্য।" টুইটের সঙ্গে ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপও পোস্ট করেন তিনি। তাতে একটি পুরনো বক্তৃতায় মোদীকে বলতে শোনা গিয়েছে, "আপনারা দিল্লিকে ধর্ষণের রাজধানী বানিয়ে সারা বিশ্বের কাছে দেশের মুখ নিচু করছেন।"
দেখুন সেই টুইট।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1205388149498580992
বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় প্রকল্প মেক ইন ইন্ডিয়া নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের কথা মনে আছে? কথা ছিল, ভারতেই নাকি সব তৈরি হবে এবং বহু মানুষ চাকরি পাবেন। চাকরি কত জন পেয়েছেন? উল্টে মেক ইন ইন্ডিয়া তো এখন রেপ ইন ইন্ডিয়া হয়ে গেছে। যেভাবে এদেশে যৌন নির্যাতন বেড়েছে, তাতে এমন বার্তাই যাচ্ছে গোটা দুনিয়ার কাছে।”
রাহুল আরও জানান, উত্তরপ্রদেশে এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। তার পরে ওই মেয়েটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মেরে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি বলে উল্লেখ করেন রাহুল।
এই প্রসঙ্গে শুক্রবার লোকসভায় স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, ঝাড়খণ্ডের একটি সমাবেশে দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন রাহুল। তিনি বলেন, “দেশের ইতিহাসে এই প্রথম এমন খারাপ কথা শোনা গেল। একজন নেতা বলছেন, ভারতীয় মহিলাদের ধর্ষণ করা উচিত! দেশবাসীর প্রতি এই অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য রাহুল গান্ধীর শাস্তি হওয়া উচিত।”
দেখুন রাহুল গান্ধীর আক্রমণ এবং স্মৃতি ইরানির পাল্টা তোপ।
https://twitter.com/ANI/status/1205377767698661377
স্মৃতি ইরানি যখন এই আক্রমণ শানাচ্ছেন রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে, তখন রাহুলের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন অন্য বিজেপি সাংসদেরাও। স্মৃতি অবশ্য আক্রমণ থামাননি। তিনি আরও বলেন, "সমস্ত পুরুষ মোটেই ধর্ষক নয়। এটা বলা মানে দেশকে অপমান করা। ৫০ ছোঁয়া রাহুল গান্ধী এটা বুঝতে পারছেন না, তাঁর ওই মন্তব্যের অর্থ ধর্ষণ করার জন্য কাউকে ভারতে আমন্ত্রণ জানানো!"
রাজনাথ সিংহও এই প্রসঙ্গে রাহুলের সমালোচনা করে বলেন, "এরকম রুচি ও নীতির মানুষের কোনও অধিকার নেই সংসদ ভবনের সদস্য হওয়ার।"
ডিএমকে নেতা কানিমোঝি অবশ্য রাহুল গান্ধীকে সমর্থন করে নারী সুরক্ষার প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "আমরা প্রধানমন্ত্রীর মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সম্মান করি। আমরাও চাই দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হোক। কিন্তু এদেশে কী হচ্ছে? সেটাই রাহুল গান্ধী বলতে চেয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, মেক ইন ইন্ডিয়া বলে কিছু হচ্ছেই না, উল্টে দেশের মেয়েরা রোজ ধর্ষিত হচ্ছে। এটাই চিন্তার বিষয়।"
তুমুল হট্টগোলের জেরে শেষপর্যন্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুলতুবি করে দেওয়া হয় লোকসভার অধিবেশন। একই ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভার অধিবেশনও। উল্লেখ্য, আজই সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিন।
তবে শুধু মেক ইন ইন্ডিয়া নয়। ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনী প্রচারে মোদীকে আক্রমণ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আরও বলেন, "মোদী বলেন 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও'। কিন্তু উনি কখনও বলেন না, কার থেকে মেয়েকে বাঁচাতে হবে। বিজেপি নেতাদের থেকে মেয়েদের বাঁচাতে হবে আমাদের।"