দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর বদলালেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং (Amrindar Singh)। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেন। তারপরে বলেছিলেন, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এখন যাকে খুশি মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারে। কিন্তু পরে বললেন, "অপদার্থ সিধুকে মুখ্যমন্ত্রী পদে মেনে নেব না।"
এদিন সকালেই শোনা যায়, অমরিন্দর ইস্তফা দিতে পারেন। শুক্রবার রাতে পাঞ্জাবের ৫০ জন বিধায়ক সনিয়াকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী বদল করা প্রয়োজন। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুনীল জাখর, প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং বিয়ন্ত সিং-এর নাতি রভনীত সিং বিট্টু। কিন্তু সিধুর নাম এক্ষেত্রে শোনা যায়নি।
২০১৭ সাল থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক নভজ্যোৎ সিং সিধুর সঙ্গে অমরিন্দর সিং-এর অশান্তি চলছে। অমরিন্দরের আপত্তি সত্ত্বেও গত জুলাইতে সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করে হাইকম্যান্ড। তার আগে দলনেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী দফায় দফায় অমরিন্দর সিং ও সিধুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে সিধু ও অমরিন্দরকে চায়ের আসরে দেখা যায়। তারপর রাহুল সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, পাঞ্জাব সংকটের সমাধান হয়েছে।”
পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পরে সিধু চিঠি লেখেন অমরিন্দর সিংকে। তিনি বলেন, সনিয়া গান্ধীর জন্যই তিনি দলে উঁচু পদ পেয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমার কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি মানুষের পক্ষে কথা বলি। আপনি পাঞ্জাব কংগ্রেস পরিবারে সবচেয়ে বয়স্ক। আপনি দয়া করে প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন টিমকে আশীর্বাদ করুন।”
এরপর সিধু তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। তাঁদের নিয়ে অমরিন্দরের সঙ্গে সিধুর নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। পরে বিধায়কদের এক বড় অংশ ফের বলতে থাকেন, অবিলম্বে অমরিন্দর সিংকে সরানো উচিত। কারণ তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেন না। অবশেষে সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করলেন বর্ষীয়ান ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং।
ইস্তফা দেওয়ার পরে অমরিন্দর সিং বলেন, "গত দু'মাসে কংগ্রেসের নেতারা তিনবার আমাকে অপমান করেছেন। হাইকম্যান্ড থেকে দু'বার বিধায়কদের ডেকে পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। এদিন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। মনে হচ্ছে নেতৃত্ব আমার ওপরে আস্থা রাখতে পারছে না।"
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি কংগ্রেসেই থাকবেন, নাকি নতুন দল গড়বেন? তিনি বলেন, সব পথই খোলা আছে। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব। তবে এই মুহূর্তে আমি কংগ্রেসে আছি। অমরিন্দর সিং-এর ছেলে টুইট করে বলেন, আমার বাবার সঙ্গে রাজভবনে গিয়েছিলাম। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।