দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশে ফের নারী নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ভাদোহি অঞ্চলে এক মহিলাকে প্রকাশ্য রাস্তায় জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে মারধর করেছে দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তার পরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হইচই।
গত শনিবার ভাদোহির রাপরি গ্রামে ওই মহিলাকে নির্যাতন করা হয়। গ্রামেরই দাবাং লালচাঁদ নামে এক ব্যক্তি মহিলাকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে হেনস্তা করত। শনিবার বিকাল পাঁচটা নাগাদ মহিলা ও তাঁর স্বামী লালচাঁদের মুখের ওপর প্রতিবাদ করেন। তখন লালচাঁদের দলবল এসে মহিলা ও তাঁর স্বামীর ওপরে চড়াও হয়। দু’জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রকাশ্য রাস্তায় মহিলার জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, মহিলা দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। পালাতে চাইছেন। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর শাড়ি বাড়ির বাইরে পড়ে আছে। অভিযোগ, পুলিশ ওই মহিলার স্বামীকে বলে, সব কথা প্রকাশ্যে জানানোর দকার নেই। পরে পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও খোঁজ করা হচ্ছে। একটি মামলাও করা হয়েছে।
এর আগে উত্তরপ্রদেশে আরও কয়েকবার নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে জৌনপুর জেলার তাহিপুর বাকি গ্রামে ৪৫ বছরের এক দলিত মহিলাকে জামাকাপড় ছিঁড়ে মারধর করা হয়। গরম শিক দিয়ে শরীরের গোপন অঙ্গ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে পরে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, মহিলার অবস্থা সংকটজনক।
উত্তরপ্রদেশের উন্নাওতে দুই বোনের মৃত্যু নিয়েও দেশ জুড়ে হইচই হয়েছিল। এটাওয়া অঞ্চলে ১৭ ও ১৩ বছরের দুই বোনকে দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত এক দুষ্কৃতী। বড় বোনকে সে গুলি করে মারে। তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিছুদিন বাদে সে জামিনে মুক্ত হয়। তারপর ছোটবোনকেও গুলি করে মারে। কারণ সে ছিল দিদির খুনের সাক্ষী।
বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগীর আমলে উত্তরপ্রদেশ ক্রমশ মেয়েদের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিধানসভায় পেশ হওয়া একটি হিসাবে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আগের বছরের তুলনায় ধর্ষণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ, শ্লীলতাহানি বেড়েছে ৪০ শতাংশ, মেয়েদের অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ এবং ইভটিজিং বেড়েছে ৫০ শতাংশ।