
শেষ আপডেট: 28 August 2019 18:30
দিল্লির লাল কেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, চন্দ্রযানের অভিযান সাফল্য ছুঁতে চলেছে। বিশ্বে চতুর্থ দেশ হিসেবে চন্দ্রাভিযানে ইতিহাস গড়তে চলেছে ভারত। সুতরাং, আর দেরি করা যাবে না। ২০২২ সালের মধ্যেই মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরে গগনযানে মানুষ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় ইসরো। ভারতীয় মহাকাশচারীদের বেছে নেওয়ার জন্য তৈরি হয় কমিটি। যে তিনজনকে বেছে নেওয়া হবে, তাদের কস্টিউমের মডেলও ইসরোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
[caption id="attachment_136851" align="aligncenter" width="504"]
মহাকাশচারীদের স্পেস-স্যুটের এই ছবিই সামনে আনে ইসরো[/caption]
তখনই জানানো হয়, এই তিনজনের মধ্যে মহিলা ও পুরুষ উভয়েই থাকবেন। ইসরো জানিয়েছে, প্রায় দেড় বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নভশ্চরদের। যার অধিকাংশই হবে ভারতে। চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতির জন্য ইতিমধ্যেই নাসা, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইসরো। গগনযানে ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত নভশ্চরেরা মহাকাশে থাকবেন। তার পরে তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসাররা সফল ভাবে মহাকাশযাত্রা সেরে ফিরে এলে, আগামী অভিযানে সাধারণ মানুষদেরও মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে ইসরো।
ভারতের এই ‘Manned Space Mission’-এ পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সাহায্য হোক বা নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ, সার্বিক ভাবে ভারতকে সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কো ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞানের বাঁধাধরা ক্লাস নয়, হাতেকলমে ভারতীয় নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ দিতে তারা প্রস্তুত। রুশ মহাকাশযানে এক বা একাধিক ভারতীয় নভশ্চরকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর ‘রাশিয়ান অরবিট সেগমেন্ট’-এ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে গগনযানে ‘ব্যোমযাত্রা’র চাপ আগে থেকেই সামাল দিতে পারবেন ভারতীয় নভশ্চররা।
আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পরে মহাকাশে স্পেস স্টেশন বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতও। ইসরো জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যেই মহাকাশে নিজেদের স্পেস স্টেশন তৈরি করে ফেলবে তারা। যেখানে প্রয়োজনে ১৫-২০ দিন মহাকাশচারীরা থাকতেও পারবেন। নিজেদের স্পেস স্টেশনে বসেই বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারবেন মহাকাশচারীরা। তবে গোটাটাই গগনযান অভিযানের সাফল্যের উপরে নির্ভর করছে।