দ্য ওয়াল ব্যুরো : তাঁর নাম ছিল প্রাইমেত্তা জিওকোপিনি। বয়স হয়েছিল ১০৫। বিশ্ব জুড়ে স্প্যানিশ ফ্লু (Spanish Flu) অতিমহামারীর সময় তাঁর জন্ম। প্রেম করেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক যুদ্ধবিমানের পাইলটের সঙ্গে। বেনিটো মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্টরা ইতালিতে ক্ষমতায় পরে সেদেশ ছেড়ে পালিয়ে আসেন। মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন দীর্ঘদিন। নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্যও লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে কোভিডে মৃত্যু হল বৃদ্ধার। তাঁর মেয়ে বলেছেন, আমার মা কখনও হার মানতে শেখেননি।
প্রাইমেত্তার মেয়ে ডোরিনির বয়স ৬১। তিনি বলেন, কোভিড না হলে আমার মা আরও কিছুদিন বাঁচতেন। তাঁর কথায়, "আমার মা ছিলেন ফাইটার। তিনি ভাবতেন, যে আমেরিকানরা বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়নি, তারা সকলেই বখাটে স্বভাবের।"
প্রাইমেত্তার মায়ের নাম ছিল পাসকুইনা ফেই। তিনি ১৯১৮ সালের ফ্লু অতিমহামারীতে মারা যান। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫। সেই অতিমহামারীতে ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার আমেরিকান মারা গিয়েছিলেন। চলতি মাসে কোভিড অতিমহামারী সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
মা মার যাওয়ার সময় প্রাইমেত্তার বয়স ছিল দুই। তাঁর বাবা ছিলেন শ্রমিক। তিনি প্রাইমেত্তা বা তাঁর বোন অ্যালিসকে মানুষ করার দায়িত্ব নেননি। অ্যালিসকে তিনি পাঠিয়ে দেন তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ইতালিতে। প্রাইমেত্তাকেও দত্তক নেয় একটি ইতালীয় পরিবার। তারা ১৯২৯ সালে চলে যায় ইতালিতে।
ডোরিনি জানিয়েছেন, প্রাইমেত্তা বলতেন, শিশুকন্যাদের মানুষ করার ব্যাপারে তাঁর বাবার ঘোর অনীহা ছিল। সেযুগে অনেক পুরুষই ছিল ওইরকম। বাচ্চাদের পছন্দ করত না।
প্রাইমেত্তার চুলের রং ছিল কালো। চোখের মণিও ছিল কালো রং-এর। রীতিমতো সুন্দরী ছিলেন তিনি। কৈশোর থেকেই সেলাইয়ের কাজ করতেন। তাঁর প্রেমিকের নাম ছিল ভিত্তোরিও আন্দ্রিয়ানি। ২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে এক সামরিক উড়ান ক্লাবে প্রাইমেত্তা বলেন, প্রেমিকের সঙ্গে আমার বিশেষ দেখাই হত না। সে বেশিরভাগ সময় থাকত যুদ্ধক্ষেত্রে।
১৯৪০ সালের জুন মাসে ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এসে প্রাইমেত্তাকে বলে, শীঘ্র ইতালি ছেড়ে যান। কারণ মুসোলিনি মার্কিন নাগরিকদের পছন্দ করেন না। প্রাইমেত্তা প্রথমদিকে ইতালি ছেড়ে যেতে চাননি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বাদে পুলিশ তাঁকে সতর্ক করে বলে, দেশ ছেড়ে না গেলে তাঁর স্থান হবে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে।
১৯৪১ সালের জুন মাসে ভিত্তোরিও নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, মাল্টার কাছে তাঁর বিমান ভেঙে পড়েছিল। প্রাইমেত্তা ট্রেনে চড়ে ইতালি থেকে পালিয়ে যান পর্তুগালে।