দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই তো অনেক কারণে বাড়ি বিক্রি করেন বা করতে বাধ্য হন। বাড়িতে কারোর কঠিন রোগের চিকিৎসায় জন্য, বা মেয়ের বিয়ের টাকা জোগাড়ের জন্য, ছেলেকে পড়ানোর জন্য। কিন্তু দাদাকে খুন করানোর জন্য সুপারি কিলারকে টাকা দিতে কেউ বাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছে, এমন টা শুনেছেন কখনও?
হ্যাঁ, এমন ঘটনাই ঘটেছে পশ্চিম বেঙ্গালুরুর সোননেনাহাল্লি এলাকায়। সেখানে এমন ঘটনাই ঘটেছে এই সপ্তাহের গোড়ায়। গৌরিআম্মা নামে বছর পঁয়তাল্লিশের এক মহিলা বাড়ি বিক্রি করে তিন লাখ টাকা পেয়ে সেই টাকা দিয়ে খুনি ভাড়া করে তাঁর দাদা রাজশেখরকে কুপিয়ে খুন করিয়েছে।
কিন্তু কেন? সেই গল্পটাও কম অদ্ভুত নয়। ওই মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে থাকত, আর একটা ছোট দোকান চালিয়েই তাদের রুজিরোজগার। মহিলা তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিল এই মাসের গোড়ার দিকে, পাড়াতেই একটা ছোট বেকারির দোকান চালানো চন্দ্রশেখরের সঙ্গে। বিয়ের আয়োজন করার জন্য অনুরোধ করেছিল দাদা, পেশায় রঙের মিস্ত্রি রাজশেখরকে।
কিন্তু পরে হঠাৎ গৌরিআম্মার মনে হয় চন্দ্রশেখর ঠিক সুবিধের ছেলে নয়। চরিত্র ভালো না। তাই এই বিয়ে দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে তার মেয়ের সঙ্গে চন্দ্রের ভাব ভালোবাসা বেশ বেড়ে গেছে এই ক’দিনে। তাদের দু জনের কোনো সমস্যা নেই পরস্পরকে নিয়ে। মহিলা বেঁকে বসায় তারা দু’জন মামা রাজশেখরের শরণাপন্ন হয়। অনুরোধ করে, যেভাবেই হোক তাঁর বোনকে রাজি করিয়ে এই বিয়ে উতরে দিতেই হবে।
দাদা বোনকে ভাগ্নির হয়ে বলার পরে, বোন দাদা কে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে যে এই বিয়ে দেওয়া যাবে না, বিয়ে ভাঙতেই হবে। গৌরিআম্মা যখন দেখে যে দাদা তাঁর ভাগ্নির বিয়ে দেওয়াতে একদম বদ্ধপরিকর, তখন অন্য পরিকল্পনা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গৌরিআম্মা বুঝে যায় তার দাদা থাকলে এই বিয়ে রোখা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সে তখন পাড়ারই এক মহিলা, বছর আঠাশের মুমতাজকে গোটা ঘটনার কথা খুলে বলে। মুমতাজ জানায়, লোক লাগিয়ে সে রাজশেখরকে সরিয়ে দিতে পারবে, কিন্ত তিন লাখ টাকা লাগবে। আর কিছু না ভেবে গৌরিআম্মা নিজের ছোট বাড়িটা বেচে সেই টাকা তুলে দেয় মুমতাজের হাতে। মুমতাজ তার চেনা তিনটে অল্পবয়স্ক ছেলে সাদিক, মুন্না ও লাডলেকে পয়সার লোভ দেখিয়ে এই কাজে লাগায়।
এই তিনটে ছেলে ফন্দি আঁটে রাজশেখরকে নির্জন কোথাও নিয়ে যাওয়ার। রং করার নতুন কাজ দেওয়ার নাম করে ওরা তাকে ২২শে জুন পাশের কেনগেরি এলাকার একটি ভাঙা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ছোরা দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কিন্তু কী ভাবে জানা গেল ঘটনা? রাজশেখরের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় মুমতাজ বাড়ি ছেড়ে হাওয়া। কেনগেরির ইনসপেক্টরের নেতৃত্বে একটি দল তার খোঁজ শুরু করে। দেখা যায় মুমতাজ তার মোবাইলের সিম পাল্টে ফেলেছে। সন্দেহ আরও বাড়ে। তাকে ধরতেই সে গড়গড় করে গোটা গল্প বলে দেয়। এরপরে ওই তিনটে ছেলেকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ধরা হয়েছে গৌরিআম্মাকেও।