দেখা যায়, রাজ্যের নানান জেলার ভোটার তালিকায় একই নাম, বয়স ও স্বামীর নাম— তবে পদবি বদলে ৪৪টি পৃথক এপিক কার্ড!

ছবি এআই
শেষ আপডেট: 23 November 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া, বাঁকুড়া, দুই ২৪ পরগনা, বর্ধমান থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর— রাজ্যের অন্তত ৪৪টি জায়গার ভোটার তালিকায় একই নামের পুনরাবৃত্তি (Same Epic Card)। কোথাও তিনি মায়ারানি রায়, কোথাও মায়ারানি নায়া, আবার অন্যত্র মায়ারানি কোঙার বা মায়ারানি মণ্ডল (SIR West Bengal)। পদবি বদলালেও নাম এক— এ ‘মায়া’ প্রপঞ্চময়। আসলে এই ‘মায়া’ হলেন পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের এক মধ্যবয়স্ক রাঁধুনি মহিলা—মায়ারানি গোস্বামী।
তাঁরই এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) স্ক্যান করতে গিয়ে চমকে ওঠেন ব্লক লেভেল অফিসার (BLO)। দেখা যায়, রাজ্যের নানান জেলার ভোটার তালিকায় একই নাম, বয়স ও স্বামীর নাম— তবে পদবি বদলে ৪৪টি পৃথক এপিক কার্ড!
বিষয়টি জানাই নেই মহিলার
ডিভিসি পাড়ার সরকারি প্রকল্পের বাড়িতে থাকেন বিধবা মায়ারানি। দিন চলে বাড়ি বাড়ি রান্নার কাজ করে। ভোটদানের স্থান বলতেই তিনি জানেন বৈদ্যনাথপুর স্কুল। ঘটনা নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তাও নেই তাঁর। বলছেন, “বাবারা, আমি তো কিছুই জানি না। পাড়ার সবাই যেমন এসআইআর ফর্ম পূরণ করেছে, আমিও করেছি। তারপর থেকেই লোকজন এসে প্রশ্ন করছেন। তবে অনেকে বলেছে, আমার ভয় নেই।”
৪৪ ভুয়ো পরিচয়— ভুল না কি পরিকল্পিত জালিয়াতি?
মায়ারানির নামে কোথাও পদবি ‘মণ্ডল’, কোথাও ‘ঘোষ’, কোথাও ‘রায়’, আবার কোনও জেলায় ‘নায়া’। শুধু তাই নয়, ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর বয়স কম দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
বিজেপি দাবি করছে এটা নিছক ভুল নয়, সুপরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ভোটার সাজানোর কাজ। পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির অভিযোগ, “এসআইআর না হলে তো এমন জালিয়াতি ধরা পড়তই না। এরা অসহায় মানুষের নাম ব্যবহার করে ভুয়ো ভোটার তৈরি করেছে।” তিনি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কমিশনের কাছে।
তৃণমূলও উদ্বেগ স্বীকার করল
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রবিন পালও বিষয়টিকে গুরুতর বলেই মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য— “কমিশন দ্রুত তদন্ত করুক। কে বা কারা এই চক্র চালাচ্ছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। তবে যে মহিলা ভুক্তভোগী, তাঁর যেন কোনও ক্ষতি না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।”
কমিশনের তদন্ত শুরু
গোটা ঘটনায় শোরগোল পড়েছে পশ্চিম বর্ধমানে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, একই নাম-স্বামীর নাম-তথ্য মিলিয়ে ৪৪টি জায়গায় ভোটার পরিচয় পাওয়া— একে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে করছেন কর্তারা। কীভাবে একটি নাম এতগুলো তালিকায় ঢুকল, ভুল, না কি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি— সেই দিকেই এখন নজর।