দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বুধবার উইমেন প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড ম্যারেজ প্রহিবিশন ডিপার্টমেন্টের অফিসার রজনী গুপ্তর কাছে ফোন আসে, হরিয়ানার এক গ্রামে জনৈক বধূকে শৌচাগারে আটকে রাখা হয়েছে টানা একবছর। তিনি রিশপুর গ্রামে নির্দিষ্ট বাড়িতে পৌঁছে দেখেন, অভিযোগ সত্যি। রজনী গুপ্ত জানান, "আমাদের কাছে খবর এসেছিল, এক মহিলাকে একবছর শৌচাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি, খবর সত্যি। মনে হয়, মহিলাকে অনেকদিন কিছু খেতেও দেওয়া হয়নি।"
মহিলার স্বামী বলেন, তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে সুস্থ নন। রজনী গুপ্ত বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল, মহিলা মানসিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু মনে হচ্ছে তা সত্যি নয়। আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। তাঁকে এক বছর শৌচাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। আমরা তাঁকে উদ্ধার করেছি। পুলিশে অভিযোগও জানানো হয়েছে।"
আমাদের দেশে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু স্ত্রীকে এক বছর শৌচাগারে আটকে রাখার অভিযোগ আগে শোনা যায়নি। গত মে মাসে ন্যাশনাল লিগাল সার্ভিসেস অথরিটি থেকে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, লকডাউনের সময় ভারতে বেড়েছে গার্হস্থ্য হিংসা। বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে, বধূ নির্যাতন ও অন্যান্য গার্হস্থ্য হিংসা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তরাখণ্ডে।
গত জুলাই মাসে মধ্যমগ্রামের চণ্ডীগড় রোহন্ডা পঞ্চায়েতের বিড়পুর এলাকায় এক বধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে শাশুড়ির বিরুদ্ধে। মৃতা তরুণীর পরিবার জানায়, তাঁদের মেয়ে পারভিনা (খাতুন) বিবি মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে বলেছেন, রুটি তৈরি করা নিয়ে শাশুড়ি তাঁকে কটূক্তি করে ও গায়ে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর ঘরের বাইরেই ছিল। তবু তারা বাঁচাতে আসেনি ২৪ বছরের তরুণীকে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি কেউ যাতে জানতে না পারে তাই দীর্ঘক্ষণ ঘরের মধ্যেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে রাখা হয় দগ্ধ পারভিনাকে। ঘরের ভিতরেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। সন্ধ্যের পরে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে তরুণীর বাপের বাড়িতে খবর দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় শ্বশুর-শাশুড়ি। সেখানেই রাত দুটো পনেরো নাগাদ মারা যায় পারভিনা ও তার গর্ভের ৮ মাসের সন্তান। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের তরফে মধ্যমগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, যেভাবে দু-দুটো প্রাণ ওরা নিয়ে নিল, তাতে ওদের যেন চরম শাস্তি হয়।