
শেষ আপডেট: 15 December 2023 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা হওয়ার অদম্য ইচ্ছে আর অধ্যবসায়ের কাছে হার মানল শরীরও। মেনোপজের ঠিক আগে শরীরের বাধানিষেধও হার মানল। জিতে গেল আইভিএফ (ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন)। মৃত স্বামীর শুক্রাণু ব্যবহার করেই ৪৮ বছর বয়সে মা হলেন বীরভূমের মুরারইয়ের বাসিন্দা সঙ্গীতা কেশরি।
দু’বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। সেই সময় আইভিএফ প্রক্রিয়া চলছিল সঙ্গীতার। শুক্রাণু সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন ডাক্তাররা। সেই শুক্রাণু ব্যবহার করেই যে মা হবেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ক’জনে? বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের এক বধূ স্বামীকে হারিয়ে যাঁর সম্বল বলতে একটা ছোট মুদির দোকান, তাঁর মা হওয়ার তীব্র আকাঙ্খাকে সম্মান জানিয়েছেন ডাক্তাররাও। ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। সফলও হয়েছেন। সংরক্ষণ করে রাখা শুক্রাণু দিয়েই মা হয়েছেন সঙ্গীতা। সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। সন্তান সুস্থ থাকলেও মা এখন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট’-এ (সিসিইউ) ভর্তি। চিকিৎসকেরা জানান, ধীর ধীরে তাঁর পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির বাসিন্দা ৪৮ বছরের সঙ্গীতা কেশরি। বীরভূমের মুরারইয়ের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। প্রায় দুই বছর আগে করোনায় তিনি হারিয়েছেন স্বামীকে। মুদিখানার একটি ছোট্ট দোকান চালিয়ে দিনগুজরান হয় তাঁর। স্বামীর মৃত্যুর পর মা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় পরিবারের বিরাগভাজন হন তিনি। কিন্তু, তাতে দমে না গিয়ে একাই এগিয়ে চলেন।
১১ ডিসেম্বর রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফুটফুটে ছেলের জন্ম দিয়েছেন তিনি। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউতে রাখা হয় তাঁকে। সঙ্গীতার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়েছে। সেখানে রয়েছেন দু’জন অ্যানাস্থেটিস্ট, এক জন স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ এবং এক জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
শ্বশুরবাড়ি হাত ছাড়লেও পাশে রয়েছেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সঙ্গীতার সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন চিকিৎসকরাও।
সঙ্গীতার আইনজীবী অনিন্দ্যকান্তি সিং বলেছেন, ‘‘স্বামী বেঁচে থাকাকালীন ওই মহিলার সন্তান ধারণ নিয়ে সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান লাভের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তাঁরা। তখনই কলকাতার একটি ল্যাবরেটরিতে স্বামীর শুক্রাণু সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে কোভিডে সঙ্গীতার স্বামী মারা যান। তাই সন্তান চেয়ে মৃত স্বামীর শুক্রাণুকেই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।’’