দ্য ওয়াল ব্যুরো : বরের অন্য কারও সাথে সম্পর্ক রয়েছে, এই অভিযোগ এনে দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মহিলা। বেঙ্গালুরুর হনুমন্ত নগরে থাকতেন রাজেশ্বরী ও সিদ্ধাইয়া। তাঁদের দুই মেয়ে ভূমিকা এবং মনসা। দীর্ঘদিন ধরে সংসারে মন নেই সিদ্ধাইয়ার। স্ত্রী, দুই মেয়েকে তিনি অবহেলা করে চলেছেন দিনের পর দিন, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজেশ্বরী। না, কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। তাহলে কী করে সামনে এল এই তথ্য?
পুলিশ জানাচ্ছে রাজেশ্বরীর হোয়াটস্যাপ স্টেটাস এই কথাই বলছে। শহরের শ্রীনগর এলাকার আদত বাসিন্দা সিদ্ধাইয়াকে ১৮ বছর আগে বিয়ে করেন রাজেশ্বরী। বর্তমানে রাজেশ্বরীর বয়স হয়েছিল ৪০। তাঁদের বড় মেয়ে ১৭ বছরের মনসা এখন পিইউসির ছাত্রী ছিলেন, ছোট মেয়ে ১৫ বছরের ভূমিকা ক্লাস টেনে পড়ছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, গত তিন বছর ধরে সিদ্ধাইয়ার অন্য এক মহিলার সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। যার জেরে বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। সিদ্ধাইয়া অনেক সময়েই বাড়ি ফিরতেন না। এ নিয়ে স্ত্রী এবং মেয়েরা বারবার বলে ও বুঝিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত নেন রাজেশ্বরী এবং তাঁর মেয়েরা।
প্রতিবেশীরা সোমবার সকাল থেকে যখন দেখেন তাঁদের বাড়ি থেকে কেউ ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন না, তখনই তাঁদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ধাক্কা দেন দরজায়, শেষে কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেন প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে তাঁরা দেখেন, তিন জনই সিলিং ফ্যান থেকে দড়ি দিয়ে ঝুলছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। ঘরে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ রাজেশ্বরীর মোবাইল ঘেঁটে স্টেটাসে তাঁর ক্ষোভ দেখতে পান। যেখানে লেখা আছে, সিদ্ধাইয়া ওঁদের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, তাই ওঁরা আত্মহত্যা করছেন।
সিদ্ধাইয়া এই মুহূর্তে বেঙ্গালুরুতে নেই, তাঁকে পুলিশ তলব করেছে যাতে তিনি তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেই পুলিশ নিশ্চিত হবে এই ঘটনায় আর অন্য কোনও মোড় আছে কি না। কারণ ওই সুইসাইড স্টেটাসটা রাজেশ্বরীরই দেওয়া কি না তা নিয়েও নিশ্চিত নয় পুলিশ।