
শেষ আপডেট: 7 July 2024 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের বোলপুরে বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। ঘরে আগুন লাগিয়ে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বাড়ির মেজ বউকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর প্রেমিককেও আটক করে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
গত বৃহস্পতিবার বোলপুর থানার রায়পুর সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন গীত গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান রূপা বিবি (৩০) এবং তাঁর ছোট ছেলে আয়ান শেখ (৪)। বর্ধমানের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত শনিবার বাবা শেখ তুতারও মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবারই সন্দেহ করা হয়েছিল, ওই পরিবারের ঘরে কেউ কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। শনিবার সামনে আসে পারিবারিক দ্বন্দ্ব। মৃত দম্পতির বড় ছেলে ওয়াসিম আখতার তাঁর কাকিমা স্মৃতি বিবি ওরফে নাজরিন নিহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াসিমের কাকিমা তথা ওই বাড়ির মেজ বউ স্মৃতিকে পুলিশ আটক করে। পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেন স্মৃতি। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ওয়াসিম পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁর কাকিমার সঙ্গে গ্রামের বাসিন্দা এক হাতুড়ে ডাক্তার চন্দন ইসলামের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আখতার বলেন, "আমার বাবা, মা বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাই চক্রান্ত করে বাবা, মা ও ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে।" অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ ছিলেন চন্দন। পরে তাঁকেও আটক করা হয়েছে। চন্দনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনাটির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
এদিকে এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। বেশ অনেকক্ষণ বোলপুর থেকে বর্ধমান যাওয়ার রাস্তা অবরোধ করা হয়। শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অসিত মাল। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বীরভূমের পুলিশ সুপার রাজনাথ মুখোপাধ্যায়ও। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, " পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করার মতো নয়। এই ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শাস্তি হোক।"