দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে চলছে এক চরম বিপর্যয়। ২০ লক্ষ মানুষ সংক্রামিত মারণ করোনাভাইরাসে, মৃত্যুমিছিল পেরিয়েছে সওয়া এক লক্ষ। একের পর এক শহর অনির্দিষ্ট কালের জন্য লকডাউন করা হচ্ছে, স্তব্ধ হয়ে গেছে সাধারণ জীবনের স্বাভাবিক চলাচল। এ সব কিছুর মধ্যেও কিন্তু আশার আলো জ্বলছে একটিমাত্র জায়গায়। প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মৃত্যু সংখ্যার চার গুণ বেশি নবজীবন প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। এই সংখ্যাটা যেন বলছে, যুদ্ধে আমরা কিছুতেই হার মানব না!
এই আশার আলোতেই সম্প্রতি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ব্রিটেনের হেলিং দ্বীপের বৃদ্ধা বাসিন্দা ক্যারিই পলকের মুখ। ৯৯ বছর বয়স তাঁর। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন সম্প্রতি। কিন্তু টানটান লড়াই শেষে তিনি নাইনটি নাইন নটআউট। সামনের মাসেই সেঞ্চুরি করার কথা তাঁর। শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো এই বৃদ্ধা যেন বিশ্বজোড়া করোনা বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়ানো এক নির্ভীক যোদ্ধা। মারণভাইরাসের করাল থাবা এড়িয়ে জীবনের জয়গান গেয়েছেন তিনি।
তবে এখানেই শেষ নয় ক্যারিই সকলকে মুগ্ধ করেছেন তাঁর জীবনীশক্তি ও ইতিবাচক মানসিকতা দিয়ে। সেরে ওঠার পরে ব্রিটেনে করোনা আক্রান্তদের সাহায্যর্থে ৫ লক্ষ টাকাও দান করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সুস্থতা কামনা করতেও ভোলেননি। একইসঙ্গে পরিকল্পনা করছেন, সামনের বথর ১০০তম জন্মদিনটা যাতে বিশেষ ভাবে পালন করতে পারেন তিনি।
ব্রিটেনের হেলিং দ্বীপের বাসিন্দা ৯৯ বছর বয়সি ক্যারিই পলক মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরীক্ষা করে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জেরে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত তিনি। তার পর থেকে শুরু হয় লড়াই। চিকিৎসকদের দক্ষতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যত্নে সেইসঙ্গে অবশ্যই বৃদ্ধার আত্মবিশ্বাসের জোরে বেশ কিছু দিন হাসপাতালে থাকার পরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই বয়সেও বৃদ্ধার মনোবল তাঁদের বিস্মিত করেছে। যখন খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি, তখনও প্রবল চেষ্টায় নিজেকে সজাগ রেখেছেন। ঝিমিয়ে পড়েননি। হাল ছেড়ে দেননি। নইলে এই বয়সে করোনা সংক্রমণ মুক্ত হওয়া খুব সহজ ও পরিচিত ঘটনা নয় বিশ্বের কোনও প্রান্তেই।
চিকিৎসকদের প্রতিকৃতজ্ঞতার শেষ নেই বৃদ্ধারও। তাঁদের হাল-না-ছাড়া মনোভাব দেখে মুগ্ধ তিনি নিজেও। সেরে ওঠার পরে আলাদা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি তাঁদের।