.webp)
নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন বাগদার মাস্টারমশাই সত্যজিৎ মজুমদার।
শেষ আপডেট: 21 June 2024 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১০ জুলাই রাজ্যের চার কেন্দ্রে বিধানসভা উপ নির্বাচন। ভোট হবে রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা ও মানিকতলা বিধানসভায়। মানিকতলা বাদে বাকি তিনটি বিধানসভাতেই গতবারে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। তবে ভোটে জিতে বিজেপির তিন বিধায়কই দলবদলে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন।
চারটি কেন্দ্রের মধ্যে বাগদায় শুরু থেকেই যথেষ্ট চাপে পদ্মশিবির। 'বহিরাগত প্রার্থী মানব না' বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপির বাগদার স্থানীয় নেতৃত্ব। রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য স্থানীয়দের বিক্ষোভকে গুরুত্ব দেননি। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার বাগদার স্থানীয় নেতৃত্বর সহযোগিতায় উপ নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন বাগদার স্থানীয় বাসিন্দা, মাস্টারমশাই সত্যজিৎ মজুমদার।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে প্রার্থীকে নিয়ে এলাকায় হল মিছিলও। যা দেখলে বোঝা দায়, যে সত্যজিৎবাবু এবারের ভোটে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। কারণ, তাঁর মিছিলে বিজেপির পতাকার ছড়াছড়ি তো ছিলই সকলের মুখেই ছিল, জয় শ্রীরাম স্লোগানও।
কেন? সত্যজিৎবাবু বললেন, "প্রতিবারই বহিরাগতদের প্রার্থী করে বাগদার মানুষকে বঞ্চিত করেছেন বিজেপির নেতারা। আমরা সমস্যার কথা জানিয়েও দল থেকে কোনও সুরাহা হয়নি। তাই স্থানীয় নেতৃত্বর পরামর্শে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি।"
নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও এদিনের মতো প্রচারের বাকিদিনগুলিতেও তাঁর মিছিলে বিজেপির পতাকা এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা যাবে বলে জানিয়ে সত্যজিৎবাবু বলেন, "আমরাই প্রকৃত বিজেপির কর্মী। তাই বিজেপির পতাকা ব্যবহারের অধিকার আমাদেরও আছে।"
বাগদায় এবারে বিজেপি প্রার্থী করেছে বিনয় বিশ্বাসকে। বহিরাগতকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে কয়েকদিন আগে বাগদা-২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সমীর বিশ্বাস। তবে দল তা গ্রহণ করেনি। এদিন সমীরের বাড়িতে যান দলের জেলা সভাপতি দেবদাস মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী বিনয় বিশ্বাসও। বিনয় বলেন, "আমাকে নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল তা মিটে গেছে। সমীরবাবু আবার দলের হয়ে কাজ করবেন।"
সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি তৃণমূলের আঁতাতে ভোট কাটাকাটিতে অন্তত ১২টি লোকসভা আসনে বিজেপিকে হারতে হয়েছে। প্রার্থী নিয়ে স্থানীয়স্তরে বিজেপির একাংশের ক্ষোভ এবং নির্দল প্রার্থীর মনোনয়নের জেরে ভোট কাটাকাটির সুবিধা নিয়ে তৃণমূল শেষ হাসি হাসবে না তো? বাগদার মাটিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, এই চর্চা!