দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হলেন সাহিত্যিক সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সোমবার রাতে হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন ৬৯ বছরের এই সাহিত্যিক। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সোনারপুর লিভার ফাউন্ডেশনে সমবেত হয়েছেন তাঁর শোকসন্তপ্ত অনুরাগীরা। বেলার দিকে সাহিত্যিকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বারাকপুরের বাড়িতে। বেলাশেষে কাছাকাছি শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
লেখালিখির জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ‘বীরাসন’ উপন্যাসের জন্য ‘সাহিত্য অকাদেমী’ পুরস্কার পেয়েছেন ২০১২-তে। পেয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কার, সমরেশ বসু পুরস্কার। প্রশাসনিক উচ্চপদে নিযুক্তি সত্ত্বেও সাহিত্যের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। শত ব্যস্ততা সামলে বার-বার ছুটে গিয়েছেন লেখার কাছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘রসিক’, ‘পৌর্ণমাসি’, ‘মধুকর’, ‘সন্ত্রাস’, ‘বিষহর’,‘চরমপত্র’, ‘নিখিলের অন্ধকার পাখি’ প্রভৃতি। রামপ্রসাদ ও তৎকালীন সময়কে নিয়ে লেখা তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘আয় মন বেড়াতে যাবি’।
বাংলা সাহিত্যে সাতের দশকের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায়। কিশোরবেলায় লেখালিখি শুরু করেন। পাশাপাশি ভালবাসতেন গান গাইতে, আঁকতে, মূর্তি গড়তে এবং ঘুরে দেখতে। সেই দর্শনের আলোয় লিখেছেন অনেক আলোকিত গল্প ও উপন্যাস। কিছুকাল যাবৎ শরীর ভাল যাচ্ছিল না। লিভারের অসুখে বিধ্বস্ত ছিলেন। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলেছে কিছুদিন। পরে চিকিৎসাধীন ছিলেন সোনারপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্সেস’-এ। কে জানত, সেখান থেকেই শেষবারের জন্য না-ফেরার দেশে ‘বেড়াতে’ চলে যাবেন ‘রসিক’ সাহিত্যিক!