দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত শনিবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়েছেন ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং (Amarinder Singh)। মূলত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু ও তাঁর অনুগামীদের চাপেই তিনি ইস্তফা দেন। এরপর সাক্ষাৎকারে অমরিন্দর বললেন, আগামী বছরে পাঞ্জাবে ভোটে জিতে সিধু মুখ্যমন্ত্রী হোন, তা তিনি চান না। সেজন্য তিনি সিধুর বিরুদ্ধে শক্ত প্রার্থী দেবেন। সিধুকে আটকাতে তিনি যে কোনও ত্যাগ স্বীকারেই রাজি আছেন।
পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিন সপ্তাহ আগেই তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের বুদ্ধি অপরিণত। দু'জনকেই ভুল বোঝানো হয়েছে।
সম্প্রতি পাঞ্জাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধু অভিযোগ করেছিলেন, কৃষকদের থেকে বিদ্যুতের বেশি দাম নিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার। এছাড়া ধর্মের অবমাননার মামলাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি ক্যাপটেন। শনিবার পদত্যাগ করার আগে সনিয়াকে একটি চিঠি লেখেন অমরিন্দর। তাতে প্রতিটি অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা।
চিঠির শুরুতে ক্যাপটেন লিখেছেন, গত পাঁচ মাস ধরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে যা ঘটছে, তাতে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ৮৯.২ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলিও পূরণ করার জন্য কাজ চলছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন অমরিন্দর। পরে সাংবাদিকদের বলেন, হাইকম্যান্ড যাকে খুশি মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসে তিনি তিনবার অপমানিত হয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বর্ষীয়ান নেতা বলেন, সকলেরই কখনও না কখনও সুযোগ আসে। আমারও সুযোগ আসবে। তখন আমি যা করার করব।
ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর এই মন্তব্য নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে 'সুযোগমতো ব্যবস্থা নেবেন' বলতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি কি নতুন দল গড়বেন? অমরিন্দর অবশ্য জানিয়ে দেন, "আপাতত আমি কংগ্রেসেই থাকছি।"
এরপরে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট টুইট করে বলেন, "ক্যাপটেন সাহেব দলের সম্মানিত নেতা। আমি আশা করি তিনি পার্টির স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আগের মতোই কাজ করে যাবেন।" পরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিধায়কদের মতামত শুনে হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নেয়। দলের স্বার্থেই হাইকম্যান্ডের নেতারা সিদ্ধান্ত নেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতাদের দায়িত্ব বেড়েছে। আমাদের এখন ব্যক্তিস্বার্থের ওপরে উঠতে হবে। দেশ ও দলের কথা চিন্তা করতে হবে।