
উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা পরিষদের সভাপধিপতি নারায়ণ গোস্বামী
শেষ আপডেট: 23 January 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা পরিষদের সভাপধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর উপর যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চটে রয়েছেন তা কিছুদিন আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছিল। নারায়ণকে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজের এলাকার বাইরে যেন না যান তিনি।
সেই তিনি, অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী এবার চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন। আরজি কর পরবর্তী অধ্যায়ে রাজনীতিতে শালীনতা, সামগ্রিক ভাবে মহিলাদের মর্যাদা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে রাজ্যে যখন চর্চা চলছে তখন একটি সামাজিক অনুষ্ঠান মঞ্চে অশ্লীল আচরণ করেছেন অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। যা নিয়ে ঢি ঢি পড়ে গেছে। দিদির নির্দেশে ইতিমধ্যে নারায়ণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবারই নারায়ণকে শোকজের নোটিস ধরানো হতে পারে। তবে দলের মধ্যে কৌতূহল হল, নারায়ণকে কি জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে সরানো হবে? কারণ, তাঁর উপর এমনিতেই বিরক্ত নেত্রী। তার উপর এবার নারায়ণ যা করেছেন, তাতে তাঁকে সবক শেখানো দরকার বলে অনেকের মত। কেননা নারায়ণ শুধু বিধায়ক নন, জেলা পরিষদের শীর্ষ প্রশাসক। তাঁর কাছ থেকে এমন আচরণ অনভিপ্রেত।
গত বছর দলের জাতীয় কর্ম সমিতির বৈঠক থেকে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এমন কাজকর্ম করলে প্রথমে তিনবার সাসপেন্ড এবং তাতেও না শুধরালে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
অভিযোগ হল, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মঞ্চে উঠে অশ্লীল আচরণ করেছেন নারায়ণ। এমনকী মঞ্চ থেকে দুই মহিলাকে কটুক্তিও করেছেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে সোশ্যাল মাধ্যমে কিছু ভিডিও ভাইরাল হয় (যার সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি)।
এ ব্যাপারে জনমানসেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এরপরই নেতৃত্বরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই অনুষ্ঠানে অসংলগ্ন অবস্থায় হাজির হয়েছিলেন নারায়ণ। বিষয়টি জানতে পেরে চরম ক্ষুব্ধ হন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।