দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াতে পারেন অতীত দিনের নায়িকা মাধুরী দীক্ষিত। এবার শোনা গেল, কংগ্রেসের হয়েও দাড়াতে পারেন আর এক নায়িকা। তিনি করিনা কাপুর। সম্ভবত ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। একসময় করিনার শ্বশুর মনসুর আলি খান পতৌদিও ভোপাল থেকে কংগ্রেসের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন।
মধ্যপ্রদেশের দুই কংগ্রেস নেতা গুড্ডু চৌহান ও আনাস খান ভোপাল সংসদীয় কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে করিনা কাপুরের নাম প্রস্তাব করেছেন। ওই কেন্দ্রে ১৯৮৪ সালের পরে কখনও কংগ্রেস জেতেনি। কংগ্রেস নেতাদের একাংশ মনে করছেন, করিনা প্রার্থী হলে ভোপালে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন দলের ভোটভাগ্য প্রসন্ন হতে পারে। করিনা নিজে অথবা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ এখনও এ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি।
করিনার শ্বশুরবাড়ি যে শহরে, সেই পতৌদি শহর গুরগাঁওয়ের কাছে অবস্থিত। তবে ভোপালের সঙ্গেও তাঁদের সম্পর্ক বহু পুরানো। তিন প্রজন্ম আগে নবাব ইফতিকার আলি খান পতৌদি ভোপালের নবাব হামিদুল্লা খানের দ্বিতীয় কন্যা সাজিদা সুলতানকে বিবাহ করেন। সাজিদা সুলতান হলেন অভিনেতা সইফ আলি খানের ঠাকুমা।
১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধী ভোপাল থেকে দাঁড় করিয়েছিলেন ‘টাইগার’ পতৌদিকে। রাজীব নিশ্চিত ছিলেন, পতৌদি জিতছেনই। কারণ ভোপালে নবাবরা খুবই জনপ্রিয়। একসময় তাঁরা গরিবদের বিপুল পরিমাণ জমি দান করেছিলেন। কিন্তু রাজীবের আশা পুর্ণ হয়নি। ’৯১ সালে ভোপালে হেরে গিয়েছিলেন পতৌদি। সেবার ভোটে স্বামীর হয়ে প্রচার করেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। তিনি লক্ষ করেন, পুরো শহরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন স্পষ্ট।
পতৌদি প্রচার করেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতার হয়ে। তাঁর ও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতিটি জনসভায় বিপুল ভিড় হত। এমনকী মৃত্যুর কিছুদিন আগে ভোপালে প্রচারে গিয়েছিলেন রাজীব স্বয়ং।
’৯১-এর আগেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন পতৌদি। প্রথমবার তিনি ছিলেন কংগ্রেসের বিপক্ষে। ১৯৭০ সালে ইন্দিরা গান্ধী রাজন্যভাতা বিলোপ করেন। তখন টাইগার পতৌদি বছরে ৪৮ হাজার টাকা রাজন্যভাতা হারিয়েছিলেন। ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগে ১৯৭১ সালে গুরগাঁও থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন পতৌদি।
ভোপালে রাজীব তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন বটে কিন্তু তাতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কংগ্রেসীদেরই একাংশ। তাঁদের ধারণা ছিল, টাইগারের মতো এক বহিরাগত যদি ভোপাল থেকে জিতে যান, তাহলে স্থানীয় কংগ্রেসীদের অসুবিধা হবে। সেবার পতৌদিকে প্রার্থী করার বিপক্ষে ছিলেন অর্জুন সিং, শ্যামাচরণ শুক্লা, মাধবরাও সিন্ধিয়া প্রমুখ।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বড় সংখ্যক খেলোয়াড় ও অভিনেতা প্রার্থী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত, খেলোয়াড় গৌতম গম্ভীর, কপিল দেব, অভিনেতা সানি দেওল, অজয় দেবগণ, অক্ষয় কুমার ও অনুপম খেরের নাম শোনা যাচ্ছে।