দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বেঙ্গালুরুতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় তিনজন। বুধবার সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সি টি রবি বলেন, পরিকল্পনামাফিক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও সম্পত্তি নষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। কয়েকমাস আগে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভের সময় সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল। যোগী আদিত্যনাথ সরকার সেজন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করে। এদিন কর্নাটকের মন্ত্রীও তেমনই ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর কে জি হল্লি ও তার কাছে ডি জে হল্লি এলাকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। একটি থানা ও জনৈক কংগ্রেস বিধায়কের বাড়ি আক্রান্ত হয়। থানার বাইরে রাখা ২০০ বাইক পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেস বিধায়কের বাড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ গুলি চালায়। তিনজন নিহত হন।
ফেসবুকে যে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অশান্তি শুরু হয়, তা কংগ্রেস বিধায়ক শ্রীনিবাস মূর্তির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি পোস্ট করেছিলেন বলে জানা যায়। তারপরে বুধবার দিনভর বহু নেতা শান্তির বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঠিক কীভাবে গোলমাল শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
এদিন সন্ধ্যায় রবি বলেন, " সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য পেট্রল বোমা ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। ৩০০-র বেশি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।" পরে মন্ত্রী বলেন, "আমরা কয়েকজনকে সন্দেহ করছি। তদন্তে সব জানা যাবে। উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও আমরা সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করব।"
এদিন বেঙ্গালুরুর অশান্ত এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, কংগ্রেস দাঙ্গাকারীদের সমর্থন করেছে। তারা অশান্তির জন্য পুলিশকে দোষ দিচ্ছে। দাঙ্গাবাজদের নিন্দা করছে না। অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, "আমি হিন্দু ও মুসলিম, উভয় সম্প্রদায়কে শান্তিরক্ষা করতে বলেছিলাম। বিজেপি বলছে আমার বিবৃতি হিন্দুবিরোধী।"
কর্নাটকের অপর মুখ্যমন্ত্রী তথা জনতা দল সেকুলার নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী বলেন, "কোনও সম্প্রদায়ই আইনের উর্ধ্বে নয়। পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। মানুষের হতাশার বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপোষণ ও ক্ষমতালিপ্সা দেখে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।"