দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুনের ভুমতা রনরগিনী ব্রিগেড নামে এক নারী সংগঠনের নেত্রী তৃপ্তি দেশাই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে ই-মেল করে জানিয়েছিলেন, তিনি ও আরও কয়েকজন ৫০ বছরের কমবয়সী মহিলা শবরীমালা মন্দিরে ঢুকতে চান। সরকার যেন তাঁদের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। শনিবার ছয় মহিলাকে নিয়ে তিনি বিমানে গিয়েছিলেন কোচি এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে শবরীমালা মন্দিরে যাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু ভক্তদের বাধায় বিমানবন্দর থেকে বেরতেই পারলেন না তৃপ্তিরা। সেখানে ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে ফিরে গেলেন পুনেয়। যাওয়ার আগে অবশ্য বলে গিয়েছেন, আমরা আবার ফিরে আসব।
শনিবার ভোর পাঁচটায় সঙ্গীদের নিয়ে পুনে এয়ারপোর্টে নামেন তৃপ্তি । ততক্ষণে বিমান বন্দরের বাইরে জড়ো হয়ে গিয়েছেন কয়েকশ মহিলা ভক্ত। তাঁদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরাও ছিলেন। তাঁরা তৃপ্তিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও তাঁদের মন্দিরে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। কোচিন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারকে ফোন করে বলে, অবিলম্বে এই গোলমাল থামান। না হলে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তৃপ্তি বলেন, যাই ঘটুক, আমি আয়াপ্পা দেবতাকে দর্শন করতে যাবই। যারা আমার পথ আটকাচ্ছে, তারা ভক্ত নয়, গুন্ডা। বিজেপির দাবি, তৃপ্তি দেবতাকে দর্শন করতে আসেননি। তাঁর উদ্দেশ্য অশান্তি সৃষ্টি করা।
বিক্ষোভের মধ্যে তৃপ্তিরা বিমান বন্দরে বসে থাকেন টানা ১৩ ঘণ্টা । শেষে বলেন, পুলিশ আমাকে পুনে ফিরে যেতে বলেছে। তাই আপাতত ফিরে যাচ্ছি ।
অতীতে তৃপ্তি মহারাষ্ট্রের শনি সিংনাপুর মন্দিরে মেয়েদের প্রবেশাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনে সাফল্যের পর দেশের নানা প্রান্তে যে সব মন্দিরে মহিলাদের ঢোকা নিষেধ, সেখানেও আন্দোলন শুরু হয়।
শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মেয়েদের ঢোকা নিষিদ্ধ । সুপ্রিম কোর্ট ওই প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে। তার পরে অন্তত এক ডজন ৫০-এর কমবয়সী মহিলা মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভের মুখে পিছিয়ে এসেছেন।