
শেষ আপডেট: 11 October 2023 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: বিয়েতে বরপক্ষকে ৩ লক্ষ টাকা পণ দিয়েছিলেন মেয়ের পরিবার। কিন্তু তাতেও মেয়ে উপর চলত অত্যাচার। মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনলেন বধূর বাপেরবাড়ির আত্মীয়রা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল হরিহরপাড়ার সাহাজাদপুর এলাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম প্রিয়াঙ্কা খাতুন। ১৯ বছরের প্রিয়াঙ্কার বাপের বাড়ি নওদার চণ্ডীপুর এলাকায়। প্রায় দু'বছর আগে সাহাজাদপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেবুব শেখের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার।
মৃতের বাপের বাড়ির আত্মীয়দের দাবি, বিয়ের সময় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পণ দিয়েছিলেন। বরপক্ষের চাহিদা মতো জিনিসপত্রও যৌতুক দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে একদিনও মেয়েকে শান্তিতে রাখেনি স্বামী মেহেবুব ও তাঁর পরিবার। যখন-তখন আরও জিনিসপত্র ও টাকার জন্য মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত।
বুধবার বিকেলে তাঁরা খবর পান মেয়ে মারা গিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তাঁদের খবর দিয়েছিলেন। তাঁরা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গেলে দেখতে পান মেয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এর পরেই বধূ বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বচসা বাঁধে। বধূর বাপের বাড়ির আত্মীয়দের অভিযোগ, মেয়ের উপর নির্যাতন চালিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে ফেলেছে। বধূর বাপের বাড়ির লোকজন এই অভিযোগ আনতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের উপর পাল্টা চড়াও হয়। দুই আত্মীয়কে বেধড়ক মারধর করে। খুনেরও হুমকি দেন। পরে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
কিন্তু তার আগেই অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ইতিমধ্যেই জামাই ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন বধূর আত্মীয়রা। অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।