
শেষ আপডেট: 4 February 2024 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রান্নার ছোট গ্যাস সিলিণ্ডার মাথায় মেরে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে গলসি ২ নম্বর ব্লকের ভূঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীমোহনপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতের নাম সন্তোষ কুমার মজুমদার ওরফে সুনীল। ৬২ বছরের সন্তোষ পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁর স্ত্রী শ্রীমতি মজুমদার আইসিডিএস কর্মী। তাকে আটক করেছে গলসি থানার পুলিশ।
মৃতার মেয়ে শর্মিলা বিশ্বাসের অভিযোগ, "মা-বাবাকে ভালবাসত না। কোনদিন শান্তিতে থাকতে দেয়নি। বাবার উপর অত্যাচার করত।"
শর্মিলা জানিয়েছেন, তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে। তাই তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। বাবা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি এদিন এসেছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, রবিবারও মা, বাবাকে মারধর করছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সন্তোষ ও শ্রীমতীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগেই ছিল। রবিবার সকালেও দু'জনের মধ্যে ঝামেলা হয়। এরপরই সকাল আটটা নাগাদ সন্তোষ রেশন এনে বাড়ির একটু দূরে তার নিজের কাঠের দোকানে যান। আচমকা সকাল নটা নাগাদ দোকানের বাইরে টিনের উপরে রক্তাক্ত অবস্থায় সন্তোষকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ঘটনার পর শ্রীমতিকে ডেকে পাঠালে সে ঘটনাস্থলে আসতে চায়নি। তাতে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁকে চাপ দিলে তিনি মারধরের কথা স্বীকার করেন। এদিকে হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
এরপরেই জনরোষ অভিযুক্তের স্ত্রীর বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। তবে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। এরপরেই শ্রীমতিকে আটক করে থানার নিয়ে আসে।
ভূঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুবোধ ঘোষ বলেন, "যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি কাঠের কাজ করতেন। খুবই নিরীহ ভদ্রলোক ছিলেন। শুনছি, ওনার স্ত্রী নাকি মাথায় সিলিণ্ডার দিয়ে মাথায় আঘাত করছে। তিনি চান পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।"