দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনার চাকরি মানেই পদে পদে প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনা। ভয় আর আতঙ্ক জড়িয়ে ধরেছিল জওয়ানের স্ত্রীকে। পুলওয়ামার ঘটনার পর সেই আতঙ্ক আরও বাড়ে। স্বামীকে হারানোর ভয়ে শেষে আত্মঘাতী হলেন জওয়ান ভূপেন্দ্র সিংহ জেঠোয়ার স্ত্রী মীনাক্ষী।
‘‘ছুটিতে বাড়ি এলে আমাকে ফিরে যেতে বারণ করতো। এ বারও বার বার বলেছিল। কিছুতেই বুঝতেই চাইছিল না। এমনটা করবে ভাবিনি,’’ স্ত্রীকে এইভাবে হারাবেন এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না ভূপেন্দ্র। বলেছেন, ‘‘গোটা পরিবার শোকে ডুবে রয়েছে। আমরা কিছুতেই এই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারছি না,’’ সেনা জওয়ানের চোখে জল।
গুজরাতের দ্বারকা জেলার খাম্বালিয়া শহরে এই ঘটনা ঘটে শনিবার রাতে। ভূপেন্দ্র জানিয়েছেন, একটা অনুষ্ঠান বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁরা সকলে। স্ত্রী যেতে চায়নি, বাড়িতেই ছিলেন। রাতে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ভূপেন্দ্র ভাবেন স্ত্রী ঘুমোচ্ছেন। পরদিন সকালেও দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় তাঁর। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন সিলিং থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন মীনাক্ষী। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মীনাক্ষীর সঙ্গে বিয়ে হয় বছর দুই আগে। গত কয়েক মাস ধরে গুলমার্গে কর্মরত ভূপেন্দ্র। উপত্যকার অশান্তির খবর শুনলেই বিচলিত হয়ে উঠতেন মীনাক্ষী। স্বামীকে বার বার চাকরি ছেড়ে দিতেও বলেছিলেন। ভূপেন্দ্র জানিয়েছেন, এ বার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন মীনাক্ষী। পুলওয়ামার সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার খবর শুনে তাঁকে গুলমার্গে ফিরে যেতে বারণ করেছিলেন। ভূপেন্দ্র মানা করায় দু’জনের বচসাও হয়। জওয়ানের কথায়, ‘‘আমি বলেছিলাম ঠিক ফিরে আসব। চিন্তা না করতে। তবে সেনার চাকরি ছাড়তে চাইনি। তাতেই অভিমানে আত্মহত্যা করল।’’
পুলিশ আধিকারিক কেএন জাদেজা জানিয়েছেন, সেনার পরিবার শোকের মধ্যে রয়েছে। তাই তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই তদন্ত শুরু হবে।