দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড ভ্যাকসিন বাজারে আনার আগে কঠোরভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে তা নিরাপদ কিনা। তার কার্যকারিতাও পরীক্ষা করতে হবে। এর ফলে আগামী বছরের মাঝামাঝির আগে ব্যাপক হারে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না। শুক্রবার এমনই জানিয়েছেন হু-র মুখপাত্র। তিনি বলেন, যে ভ্যাকসিনগুলি তৈরির চেষ্টা চলছে, তার কোনওটিই অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি।
কিছুদিন আগে জানা যায়, মানুষের শরীরে দু'মাসেরও কম সময় পরীক্ষার পরেই রাশিয়া একটি ভ্যাকসিন অনুমোদন করেছে। অর্থাৎ তা মানুষের দেহে দেওয়ার উপযুক্ত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পাশ্চাত্য দেশের বিশেষজ্ঞরা ওই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন জনস্বাস্থ্য দফতরের অফিসাররা জানান, ফাইজার ইনকর্পোরেটেড জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষদিকেই ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে। আগামী ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে আমেরিকায়। তার ঠিক আগেই সেদেশে গণ হারে টিকাকরণ শুরু হবে। এবারের ভোটে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে করোনা অতিমহামারী। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কীভাবে অতিমহামারীর মোকাবিলা করতে পারবেন, তার ওপরে নির্ভর করছে তিনি জিততে পারবেন কিনা।
এই পরিস্থিতিতে হু-র মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস এদিন জেনিভায় বলেন, "আমাদের মনে হয় না আগামী বছরের মাঝামাঝির আগে গণ হারে টিকাকরণ করা যাবে।" পরে তিনি বলেন, "কোনও টিকা নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় সময় লাগবে বেশি। আমাদের দেখতে হবে, কোনও কোম্পানি যে ভ্যাকসিন তৈরি করছে, তা করোনা মোকাবিলায় কার্যকর কিনা। মানুষের শরীরে তা প্রয়োগ করা নিরাপদ কিনা।"
হ্যারিস বলেন, "কোনও ভ্যাকসিন নিয়ে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, তা আমাদের জানানো উচিত। এখন অনেককেই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানি না সেই ভ্যাকসিন কাজ করছে কিনা।"
হু এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) নামে একটি সংস্থা বিশ্ব জুড়ে ভ্যাকসিন বিতরণের দায়িত্ব নিয়েছে। সেই প্রকল্পের নাম কোভ্যাক্স। স্থির হয়েছে, প্রতিটি দেশে যাঁদের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাঁদের প্রথমে টিকা দেওয়া হবে।
কোভ্যাক্স স্থির করেছে, ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু আমেরিকার মতো কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা কোভ্যাক্স প্রকল্পে থাকতে রাজি নয়। তারা নিজেরাই নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে নেবে।