দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর আগের ঘটনা মনে পড়ে। বিহার ভোটের গণনা শুরু হয়েছে। তামাম টিভি চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে, লালু প্রসাদদের পিছনে ফেলে হই হই করে সরকার গড়ার পথে একা বিজেপি। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বসে, ভোট পণ্ডিতরা ততক্ষণে ব্যাখ্যাও দিয়ে ফেলেছেন কেন লালু প্রসাদরা হারছেন। কেন বিজেপি জিতছে। অমিত শাহ কীভাবে কোন তুরুপের তাস খেলেছেন—ইত্যাদি ইত্যাদি।
কেবল একটি চ্যানেল গোষ্ঠীই সঠিক ট্রেন্ড দেখাচ্ছিলেন। তা হল ই-টিভি- ১৮। তাদের পর্দায় দেখা যাচ্ছিল, বিজেপি-কে পিছনে ফেলে দ্রুত পায়ে সরকার গঠনের পথে লালু প্রসাদ-নীতীশ কুমার-কংগ্রেসের জোট। প্রসঙ্গত, সেবার জোট ছিল নীতীশ-লালুর।
এবারও যেন তেমনটাই হল। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল হাতে নিয়ে ভোট পণ্ডিতদের অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন বিহারে ভারডুবি হতে চলেছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের। বিপুল ব্যবধান নিয়ে সরকার গঠনের পথে আরজেডি, কংগ্রেস, বামেদের মহাগাটবন্ধন তথা মহাজোট। সেই মতো এদিন চ্যানেলে চ্যানেলে আরজেডির জিত আর নীতীশের ভরাডুবি নিয়ে তথাকথিত বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা ছিল শোনার মতো!
কিন্তু বেলা সাড়ে দশটা গড়াতেই দেখা যায়, সেই সব ব্যাখ্যা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত (সকাল ১১টা) যা ট্রেন্ড তাতে বিহারে লড়াই হচ্ছে সমানে সমানে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সরকার যে কোনও পক্ষেরই হতে পারে।
তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ঝড় গেছে নীতীশের উপর দিয়ে। আর সেই ঝড়ের সুফল পেয়েছে বিরোধী জোট তথা আরজেডি ও কংগ্রেস। রাজ্যে বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে আসতে পারে তেজস্বী যাদবের আরজেডি।
লালু প্রসাদ যখন জেলে বন্দী, তখন নিজস্ব ক্যারিশ্মায় আরজেডিকে এই স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব তেজস্বীরই। লালুর এই ছেলের বয়স মাত্র ৩১ বছর। গতকাল সোমবারই ৩১ পূর্ণ করে ৩২ এ পা রেখেছেন। কিন্তু বিহার স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, নীতীশ-লালু ঘরানার পর বিহারে নতুন এক নেতার উত্থান হচ্ছে। তিনি তেজস্বী। তাঁর ডান, বাম দিকে তেমন প্যান-বিহার মুখ তেমন নেই। বিহার থেকে কেন্দ্রে বিজেপির একগুচ্ছ মন্ত্রী রয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁরাও কেউ তেজস্বীর সমতুল নয়।