
শেষ আপডেট: 21 August 2023 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় চার হাজার কেজির ‘এলভিএমথ্রি মার্ক ৪’ রকেটের পিঠে চেপে চাঁদে চলেছে ভারতের চন্দ্রযান। তার সঙ্গী, ১৭৫২ কেজির ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ও ২৫ কেজির রোভার ‘প্রজ্ঞান।’ প্রোপালসন মডিউলের ওজন ২১৪৮ কেজি। মোট ওজন ৩৯০০ কেজি (chandrayaan-3)। রকেট জিটিও কক্ষপথে পৌঁছতেই চন্দ্রযান চাঁদের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে। ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে চাঁদকে ছুঁতে চলেছে সে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাউন্টডাউন। এর পরে চাঁদের পিঠে চন্দ্রযানকে ঠিকঠাক বসিয়ে দেওয়ার দায়িত্বেই রয়েছে এই ল্যান্ডার ওরফে বিক্রম (Chandayaan Lander Bikram)।
ইসরো জানিয়েছে, ভারতের তৃতীয় চন্দ্রাভিযান ইতিহাস গড়বে, ল্যান্ডারের এই নামও তাই বিশেষ কারণেই। এই নামই ছিল দ্বিতীয়বারও।![]()
ল্যান্ডার বিক্রম।[/caption]
আমদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই। তাঁকে ভারতের ‘অন্তরীক্ষ গবেষণার জনক’ বলা হয়। কেমব্রিজ থেকে ফিরে পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্যে ১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর আমদাবাদে গড়ে তোলেন ‘ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ (পিআরএল)। ১৯৬৬ সালে আমদাবাদে কমিউনিটি সায়েন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন যা এখন বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার নামে পরিচিত। পরবর্তীকালে অ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন তিনি। পিআরএল ছাড়াও আমদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিটি সায়েন্স সেন্টার, দর্পণ অ্যাকাডেমি-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে পদ্মভূষণ ও ১৯৭২ সালে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ খেতাব দেওয়া হয় তাঁকে।
[caption id="" align="aligncenter" width="650"]
প্রজ্ঞান রোভার।[/caption]
চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার কিলোমিটার দূরে। ইতিমধ্যেই চাঁদের কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে চন্দ্রযান। কক্ষপথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উপরে থাকতেই চন্দ্রযানের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছে ল্যান্ডার ‘বিক্রম।’ নামবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ)। ল্যান্ডার থেকে বার হবে ২৭ কেজি ওজনের ৬ চাকার রোভার। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে ছবি ও তথ্য পাঠাবে সে।
ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের এক পক্ষকাল অর্থাৎ ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারবে ‘বিক্রম।’ রোভারও সচল থাকবে ১৪ দিন ধরে। প্রতি বারে ১৫০-২০০ মিটার অবধি গুটি গুটি পায়ে এগোতে থাকবে সে। পরীক্ষামূলক ভাবে চাঁদের মাটি, তার রাসায়নিক উপাদানের কাটাছেঁড়া করতে পারবে। প্রতি ১৫-২০ মিনিট অন্তর অরবিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠাবে রোভার।
সবকিছু গন্ডগোল হয়ে গেলেও চন্দ্রযান নিরাপদে সফল অবতরণ করবেই, বুঝিয়ে বললেন মহাকাশবিজ্ঞানী