
শেষ আপডেট: 27 October 2023 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযানের মাঝেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। রেশন কেলেঙ্কারির অভিযোগে গভীর রাতে ইডি জ্যোতিপ্রিয়কে গ্রেফতারের পরই শুভেন্দুকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হল শাসকদল তৃণমূল।
শশী পাঁজা, কুণাল ঘোষরা নারদ প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে শশী পাঁজা বলেন, “স্রেফ অভিযোগের ভিত্তিতে যদি কাউকে গ্রেফতার করা যায়, তাহলে শুভেন্দুকে ক্যামেরার সামনে খবরের কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখা যাওয়ার পরও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না? এর থেকেই তো স্পষ্ট, বিজেপি নেতাদের কথা মতো কাজ করছে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো।”
আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “নারদ কাণ্ড তো বটেই, স্বয়ং সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে জোর করে টাকা নেওয়ার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই তদন্ত কেন ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। এর থেকেই তো সিবিআই, ইডির উদ্দেশ্য স্পষ্ট। আসলে বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে না ঢুকলে গ্রেফতার করা হবে, এটাই বোঝাতে চাইছে বিজেপি।”
গ্রেফতারির পর এদিন সকালে জোকা ইএসআই হাসপাতালে যাওয়ার আগে জ্যোতিপ্রিয়ও অভিযোগ করেছেন, “আমি বিজেপির ষড়যন্ত্রের শিকার। শুভেন্দু এটা করিয়েছে।” বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীঘাটের সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, "ওঁরা কি ভেবেছে! সব বিরোধীদের জেলে ঢুকিয়ে ক্ষমতা দখল করবে।"
এ ব্যাপারে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের ছেলে বৈভব গেহলটকে ইডির নোটিসের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন মমতা। সেই সঙ্গে বলেন, "ওঁরা বুঝে গেছে ভোটে জিততে পারবে না। তাই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করে অফিসারদের নামিয়ে দিয়েছে।"
২০১৬ সালে বিধা্নসভা ভোটের আগে নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন ছদ্মবেশী সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল। সে সময় তৃণমূলে ছিলেন শুভেন্দু। শুভেন্দু সহ তণমূলের একাধিক নেতা, নেত্রীকে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপিংস সামনে এনেছিলেন ম্যাথু। যদিও ওই ভিডিও-র সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি।
একুশের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের কয়েকদিন পর নারদ কাণ্ডে দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র ও প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। একই ঘটনায় শুভেন্দু অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছিল সেই প্রশ্ন।
শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ায় সব তদন্ত থেকে ছাড় পাচ্ছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বর। যদিও সম্প্রতি নারদকাণ্ড প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, ‘‘ও সব দিয়ে কিছু হবে না। আমাকে তো ডেকেছিল। বলে এসেছি, ওটা করাপশন (দুর্নীতি) নয়, কনস্পিরেসি (ষড়যন্ত্র)। ’’