
শেষ আপডেট: 14 November 2023 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর আট মাস আগের ঘটনা! হাড়হিম করা সন্ত্রাসে ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিল রামপুরহাটের বগটুই। হত্যালীলার পর রাতভর চলেছিল দুষ্কৃতী তাণ্ডব। গত বছরের ২১ মার্চের সেই আতঙ্কই যেন সোমবার ফিরে এসেছিল জয়নগরের দলুয়াখাঁকিতে। ফারাক শুধু দিনের আলো থাকা আর না থাকার মধ্যে।
জ্বলছে একের পর এক বাড়ি। শীতের মরসুমে প্রাণ বাঁচাতে এক কাপড়ে গ্রাম ছাড়ার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। টিভির পর্দায় সোমবার সেই দৃশ্য দেখে এক লহমায় গত বছরের মার্চে ফিরে গিয়েছিলেন বগটুইয়ের স্বজনহারা মফিজা বিবি, মিহিলাল শেখরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রামের বাসিন্দাদের মুখে মুখে ফিরছিল জয়নগরের বীভৎসতার কথা। সেই প্রসঙ্গে মফিজা, মিহিলালদের চোখের সামনে যেন ভেসে উঠছিল গত বছরের সেই রাতের বীভৎসতার ছবি।
মফিজা, মিহিলালরা বলছিলেন, “যার ঘর পুড়ে সেই ঘর পোড়ার মর্ম বোঝে। আমরা শুধু বলব, রাজনীতির আঁচে আরও কারও কোল যেন খালি না হয়। আর কারও ঘর যেন না পুড়ে।” পরক্ষণেই জানতে চান, “আচ্ছা বলতে পারেন, রাজনীতির আঁচে কেন বারবার পুড়তে হবে সাধারণ মানুষকে?”
গত বছরের ২১ মার্চ সন্ধেয় বগটুই গ্রামের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তিনি খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই রাতেই ঘটে নারকীয় বগটুই গণহত্যা। বাড়ির দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পালানোর সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আটজনের। পরে হাসপাতালে আরও দু‘জন মারা যান।
বগটুইযের ক্ষেত্রে দমকলবাহিনীকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। জয়নগরের ক্ষেত্রেও ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পরে পুলিশ পৌঁছয় বলে অভিযোগ। এমনকী গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, পুলিশির উপস্থিতিতেই চলেছে দুষ্কৃতী তাণ্ডব। ঢুকতে দেওয়া হয়নি দমকলকেও। বরং, জয়নগরে তৃণমূল নেতা খুনের পাল্টা হিসেবে চার কিলোমিটার দূরে দলুয়াখাঁকি লস্করপাড়ার একাধিক বাড়িতে পরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সিপিএম কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজনই তাদের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়েছে।
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম বাংলার রাজনৈতিক পরিসর। তবে শুধু বগটুই নয়, এদিন কলকাতা থেকে মফঃস্বল সর্বত্র মানুষের মুখে মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, রাজনীতির আঁচে কেন বারবার পুড়তে হবে সাধারণ মানুষকে?