দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক মাস ধরে গুজব ছড়িয়েছিল, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস যখন বারাণসীতে অন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল, অবাক হয়েছিলেন অনেকে। একটি মহল থেকে শোনা গিয়েছিল, প্রিয়ঙ্কার নিজের বারাণসীতে দাঁড়াতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু তাঁর মা তথা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী চাননি তাঁর মেয়ে রাজনীতিতে এসেই প্রথমে মোদীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কিন্তু শুক্রবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা স্যাম পিত্রোদা জানিয়েছেন, প্রিয়ঙ্কা নিজেই লড়াই করতে চাননি মোদীর বিরুদ্ধে।
২০১৪ সালে বারাণসীতে ব্যাপক ভোটের বিনিময়ে জিতেছিলেন মোদী। স্যাম পিত্রোদা জানিয়েছেন, প্রিয়ঙ্কা বারাণসীতে দাঁড়াবেন কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তাঁর ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে যোগ দেন প্রিয়ঙ্কা। তার ঠিক আগেই উত্তরপ্রদেশে জোট বাঁধে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি। সেই জোটে কংগ্রেসকে বাদ দেওয়া হয়। প্রিয়ঙ্কা রাজনীতিতে আসার পরে রাহুল তাঁকে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দেন। ওই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্ব দেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে। কংগ্রেস সভাপতি খুব নির্দিষ্ট করে বলেন, রোড শো করেই প্রিয়ঙ্কা বা জ্যোতিরাদিত্যের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। তাঁদের দায়িত্ব হল কংগ্রেসের সংগঠনকে চাঙ্গা করে তোলা।
ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের প্রধান স্যাম পিত্রোদা বলেন, প্রিয়ঙ্কার একাধিক দায়িত্ব আছে। তিনি বুঝেছিলেন, একটি আসন নিয়েই যদি তাঁকে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে অন্যান্য কাজগুলি করার সময় পাবেন না। তাই তিনি বারাণসী থেকে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি যে বারাণসী থেকে লড়তে পারেন, এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা নিজেই। সম্প্রতি সনিয়ার কেন্দ্র রায়বরেলিতে কংগ্রেসের এক কর্মীসভায় তিনি বলেন, তাঁর মা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারছেন না। তাই তিনি এসেছেন। এক কংগ্রেস কর্মী তাঁকে বলেন, আপনি নিজেই রায়বরেলি থেকে দাঁড়াচ্ছেন না কেন? প্রিয়ঙ্কা তখন পালটা প্রশ্ন করেন, আমি যদি বারাণসী থেকে প্রার্থী হই, তাহলে কেমন হয়?
প্রিয়ঙ্কা বারাণসী থেকে না দাঁড়ানোয় এদিন কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি ব্লগে লেখেন, কংগ্রেস প্রিয়ঙ্কাকে মোদীর কেন্দ্র থেকে দাঁড় না করানোয় আশাহত হয়েছি। লেখাটির শিরোনাম, ওয়ানাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন একজন, আর একজন বারাণসী থেকে পালিয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। এই হল পরিবারতন্ত্রের গল্প।
সাত দফার ভোটে শেষ দিন, ১৯ মে ভোট হবে বারাণসীতে।