সেই কোরিয়ার যুদ্ধের পর থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ভয়ানক শত্রুতা। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত হয় না সচরাচর। কিন্তু গত ২৭ এপ্রিল উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট যেভাবে হাসিমুখে হাত মেলালেন, তা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কেন কিম শত্রু দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলেন সেই নিয়ে চলছে জল্পনা।
এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাবনার কথা বলছেন পর্যবেক্ষকরা।
সম্ভাবনা এক: উত্তর কোরিয়া গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে।
উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের হাল দেখেই এমন ধারণা হয়েছে অনেকের। চীন থেকে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়া থেকে রপ্তানি কমেছে ৯৫ শতাংশ। আগে উত্তর কোরিয়া যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করতো তাও আগের চেয়ে কমেছে দুই তৃতীয়াংশ। এমন সংকটে পড়েই কিম শেষপর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। এমনকী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল যাতে উত্তর কোরিয়াকে আর্থিক সংকট থেকে বাঁচতে সাহায্য করে সেজন্য তিনি ট্রাম্পের কাছে আবেদন জানাবেন।
সম্ভাবনা দুই: অর্থনৈতিক সংকট নয়, আসলে কিম তাঁর পরমাণু অস্ত্রের শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই চিরশত্রু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। তিনি জানেন, একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হিসাবে কেউ তাঁকে অবহেলা করতে পারবেন না। এমনকী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পযন্ত তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন সমানে সমানে। এই অবস্থায় তাঁর ওপরে আপত্তিকর শর্তও চাপিয়ে দিতে পারবে না কেউ। বরং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসলে কিমেরই ভাবমূর্তির উন্নতি হবে।
সম্ভাবনা তিন: কিমের উপদেষ্টাদের ধারণা, যে কোনও সময় আমেরিকা উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণ করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার যা সামরিক শক্তি আছে তাতে যুদ্ধ বাধলে আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবে তো বটেই। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ক্ষতি হবে আরও ভয়ানক।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসে কিম চেষ্টা করবেন যাতে যুদ্ধ এড়ানো যায়। সে জন্য তিনি হয়তো পরমাণু অস্ত্র বানানোর কর্মসূচির ওপরে অল্পস্বল্প নিষেধাজ্ঞাও মেনে নেবেন।
কিন্তু ট্রাম্প যদি জেদ ধরেন যে, এখনই পরমাণু অস্ত্র বানানো বন্ধ করে দিতে হবে তাহলে তিনি কিম কী করবেন?
তিনি তখন বুঝবেন আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে যেতেই হবে তাঁর দেশকে। কিন্তু সেই যুদ্ধ যাতে পিছিয়ে দেওয়া যায় সেজন্যই তখন তিনি চেষ্টা করবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি করতে তিনি হয়তো রাজি হবেন। কিন্তু চুক্তির নানা ছোটোখাটো ধারা নিয়ে আপত্তি তুলবেন ঘন ঘন। এর ফলে চুক্তি স্বাক্ষর পিছিয়ে যাবে। তারপর কিছুদিন হয়তো সমঝোতার মনোভাব নিয়ে চলবেন। এইভাবে তিনি ট্রাম্প জমানা শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করবেন।
কিমের উপদেষ্টাদের ধারণা ট্রাম্প যুদ্ধবাজ। তিনি উত্তর কোরিয়াকে উচিত শিক্ষা দিতে চান। সেজন্য তিনি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছেন ততদিন উত্তর কোরিয়া কিছুটা সংযত থাকতে চায়।