
শেষ আপডেট: 28 October 2023 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে রেশন দুর্নীতির অভিযোগে টানা ২১ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার করেছে ইডি। বৃহস্পতিবার সল্টলেকে তাঁর দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে টানা জেরা করা হয়েছে। এমনিতেও জ্যোতিপ্রিয়র হাই সুগার আছে। তার উপরে জেরা করার দিনে তিনি ইনসুলিন নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার আদালতে প্রচণ্ড শরীর খারাপ হয় তাঁর। মাথা ঘুরে পড়ে যান, তারপরে বমি হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের দিনই বলেছিলেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তথা বালুর হাই সুগার আছে। ইডির জেরা এবং সুগারের কারণে কোনও বিপদ ঘটলে এফআইআর করার হুমকিও দিয়েছেন। এখন কথা হল হাই সুগার থাকলে এবং ইনসুলিন না নিলে কী কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন, একদিন বা দু’দিন ইনসুলিন না নিতে পারলে তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। যদি খাওয়াদাওয়া পরিমিত হয় তাহলে ৩-৪দিনও ইনসুলিন না নিয়ে থাকা যায়। কিন্তু এর বেশি দেরি হলে তখন হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা ‘ডায়াবেটিক কিটোঅ্য়াসিডোসিস’ রোগ হতে পারে।
ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস খুব বড় রকম জটিলতা। কিটোঅ্যাসিডোসিস থাকলে টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মতো ইনসুলিন নিতে হয়। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে নির্দিষ্ট ডোজ না নিলে তখন নানা জটিলতা শুরু হয়। হার্ট ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। রক্তে সুগারের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়ে নানারকম অসুস্থতা দেখা দেবে।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সুগার ছাড়াও নানারকম কোমর্বিডিটি আছে। তাঁর কিডনির অসুখও আছে। তার উপর সুগার লেভেল বেশি। এমন রোগীদের খুব সাবধানে থাকতে হয়। সাধারণত দেখা যায়, এইসব রোগীরা হাইপারটেনশনেও ভোগে। কাজেই শরীরে ও মনে বেশি ধকল পড়লে এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগলে তখন মাথা ঘোরা, বমিভাব আসতে পারে। অতিরিক্ত অ্যাংজাইটিতে ব্ল্যাকআউট হয়ে যেতে পারে। রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
সাধারণত সুগারের রোগীদের নানারকম শারীরিক সমস্যা থাকে। বারে বারে প্রস্রাবের বেগ আসে, প্রস্রাবের পরিমাণও বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে তখন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া গলা শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তিভাব, ভুলে যাওয়া ইত্যাদিও দেখা দেয়। সুগারের রোগী যদি খুব বেশি চিন্তা বা টেনশন করেন তাহলে তার প্রভাব পড়ে শরীরে। বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকলেও সমস্যা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে টানা ২১ ঘণ্টা জেরা করার কারণে তিনি এমনিতেই প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। ইডি কর্তাদের পরপর জেরায় তাঁর উৎকণ্ঠা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তার উপর হাই সুগার থাকার কারণে এত মানসিক ধকল নেওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। হতেই পারে আদালতে পৌঁছনোর পর তাঁর প্যানিক অ্যাটাক হয়। তাই তিনি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। বমি হতে শুরু করে তাঁর।
ডায়াবেটিস থাকলে এমনিতেই হাই প্রেশার–কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়ম করে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ইনসুলিন নিলে ও রুটিন মাফিক খাবার খেলে ভয় থাকে না। কিন্তু যদি সুগারের সঙ্গে অন্য কোমর্বিডিটি থাকে তাহলে নিয়ম মানতেই হবে। না হলেই বড় বিপদ।