
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 February 2025 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকে হুগলির ডানকুনিতে শুরু হচ্ছে সিপিআইএম-র (CPIM) ২৭ তম রাজ্য সম্মেলন (state conference )। চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এবারের জেলা সম্মেলনে বেশ কয়েকটি জেলা যেমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তেমনই ভোটাভুটির সাক্ষী থেকেছে উত্তর ২৪ পরগনা। রাজ্য সম্মেলনেও তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয় কিনা, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে তো বটেই কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। একই সঙ্গে কর্মীদের আলোচনায় মূল যে বিষয়টি উঠে আসছে, একদা সাবালক থেকে নাবালকে পরিণত হওয়া সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবারের সম্মেলনে কি নতুন কোনও পথ খুঁজে বের করতে সমর্থ হবেন মহম্মদ সেলিমরা?
সেই সূত্রেই সামনে আসছে বাংলায় ক্রমশ জনসমর্থন হারানোর বিষয়টি। এবিষয়ে কর্মীদের মধ্যে নানাবিধ মতামত রয়েছে। তারই কিছু প্রতিফলিত হয়েছে দলের রাজ্য সম্মেলনের প্রতিবেদনেও।
সূত্রের খবর, প্রতিবেদনে খোলামেলাভাবে স্বীকার করা হয়েছে, তৃণমূল এবং বিজেপি ভোটারদের মধ্যে যে মেরুকরণ তৈরি করেছে তা ভাঙতে ব্য়র্থ হচ্ছেন নেতৃত্বরা। জনসমর্থন হারানোর এটি অন্যতম প্রধান কারণ।
একইভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক গাফিলতির কথাও। প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, সকলেই এখন পার্টির নেতা হতে চান। জেলা কিংবা জোনাল কমিটির সদস্য হওয়ার প্রবণতা রয়েছে অনেকের মধ্যে। কিন্তু শাখা সম্পাদক হতে অনেকেই রাজি হচ্ছেন না। এর থেকে স্পষ্ট, কমরেডদের মধ্যে নিচুতলায় বা শাখাস্তরে কাজ করার মানসিকতা নেই।
নেতৃত্বর মতে, যে কারণে সংগঠন ক্রমশ ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে। নিচুস্তর থেকে যেখানে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা দরকার, সেখানেই গাফিলতি রয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও একটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকে যেমন দলের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন তেমনই বহু মানুষ দলে এসেওছেন। কিন্তু এজি সদস্যপদ পাওয়ার পরে বছর খানেক সংগঠনে থাকার পরই অনেকে আর পার্টি মেম্বার হতে চাইছেন না। রিপোর্টে এবিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বীকার করা হয়েছে, সময়ের উপযোগী দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গাফিলতি রয়ে গিয়েছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিবেদনের বিষয়টিগুলি নিয়ে আগামী তিনদিন ধরে আলিমুদ্দিনের ম্যানেজাররা পুঙ্খানপুঙ্খভাবে আলোচনা করবেন। তবে তাতে নতুন কোনও পথ বের হয় কিনা, তা নিয়েই সব মহলের কৌতূহল।
দলের প্রথমসারির এক নেতার আক্ষেপ, "কারণ যাই হোক না কেন, আমরা যে জনসমর্থন হারিয়েছি, তা তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তা না হলে কোথায় ২৩৫ আর কোথায় শূন্য!"