
নির্যাতিতার বাবা-মা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 August 2024 09:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের তরফে সেদিন সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে ফোন গিয়েছিল আরজি করের নিহত ডাক্তারি ছাত্রীর বাড়ির মোবাইলে। ফোন করেছিলেন হাসপাতালের সহকারী সুপার। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি নিহত ডাক্তারি ছাত্রীর মায়ের।
ঘটনার দিন পুলিশের অতি 'তাড়াহুড়ো'ও চোখে পড়েছিল তাঁদের। সদ্য সন্তান হারা বাবা-মায়ের মনে খটকার শুরু তখন থেকেই! তবে কি কাউকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে?
এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিহত ডাক্তারি পড়ুয়ার মা বললেন, "সন্তান হারানোর যন্ত্রণা প্রকাশ করতে পারব না। তাও আবার এভাবে নৃশংস হত্যা। অথচ সেদিন (৮ অগস্ট) হাসপাতালে ঢোকার পর থেকেই পুলিশ এবং আরজি কর কর্তৃপক্ষ আমাদের খুব চাপে রেখেছিল। সাড়ে ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত চেস্ট মেডিসিন বিভাগে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বিভাগীয় প্রধান বা সুপার কেউ আমাদের সঙ্গে এসে কথা পর্যন্ত বলেনি। পুলিশের হাতে, পায়ে ধরেছি তবু মেয়েটাকে দেখতে দেওয়া হয়নি।"
শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, "শুরু থেকেই পুলিশ খুব তাড়াহুড়ো করছিল। সিজার লিস্ট তৈরির সময় মেয়ের ব্যাগ থেকে কিছু রিপোর্ট এবং ওষুধ দেখতে পেয়ে বলে, এত ওষুধ খেতো! শরীর কি খারাপ ছিল? তাই কি আত্মহত্যা করল? এমনকী মেয়েটার প্রিয় গাড়িটাও ভাঙার চেষ্টা করছিল পুলিশ। আমি বলি, আমার মেয়ে সদ্য চলে গেছে, ওর প্রিয় জিনিসটা ভাঙবেন না।"
ইতিমধ্যে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছে। তবে সঞ্জয় একা জড়িত, এটা মানতে পারছেন না নির্যাতিতার মা। তাঁর কথায়, "ওকে আসল দোষী মনে করছি না। ভেতরের কেউ নিশ্চয় জড়িত রয়েছে। তা না হলে সেমিনার হলে আমার মেয়ে একা রয়েছে, এটা ও জানল কী করে !"
ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিবিআই। যাতে কিছুটা আশ্বস নির্যাতিতার মা বলছেন, "আমাদের দাবি তো একটাই! মেয়ের হত্যাকারীদের কঠোরতম শাস্তি! কিন্তু পুলিশ-হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর কার্যকলাপ তো অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল! আশা করি, সিবিআই প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করবে।"
প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন হাসপাতালে দাঁড়িয়ে নিহত ছাত্রীর বাবা ভারীগলায় বলেছিলেন, "বুঝতেই পারছি, মেয়েকে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে।"