
শেষ আপডেট: 7 July 2023 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের হিমবাহের (Glacier) গায়ে যত্ন করে কম্বল চাপা দিলেন বিজ্ঞানীরা।
ভাবুন তো, মাইলের পর মাইল সাদা বরফকে রীতিমতো কম্বল দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তিব্বতের উপত্যকা সংলগ্ন সবচেয়ে বড় ডাগু হিমবাহ এখন কম্বল মুড়ি দিয়ে আছে। যত্ন করে বিছিয়ে দিয়ে গেছেন বিজ্ঞানীরা। ওই এলাকার প্রায় ৪৩০০ বর্গফুট বরফে ঢাকা অঞ্চল পুরোপুরি লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে রাখা হয়েছে।

চিনের নানঝিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা হিমবাহ বাঁচাতে বড়সড় অভিযান শুরু করেছেন। বিজ্ঞানী ঝু বিন বলছেন, কম্বল মানে আসলে মানুষের গায়ে দেওয়ার মতো কম্বল নয়। এটা হল বিশেষ উপায় তৈরি চাদরের পাতের মতো। এগুলোকে বলা হয় জিওফ্যাব্রিক শিট। এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা সূর্যের রশ্মির থেকে হিমবাহকে বাঁচাতে পারে। এইসব পাতের উপরে সূর্যের রর্শ্মি পড়লে তা প্রতিফলিত হয়ে যাবে। তাছাড়া পরিবেশের তাপমাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, ওই পাত ভেদ করে তা হিমবাহ অবধি যেতে পারবে না। ফলে হিমবাহের গলন কিছুটা হলেও ঠেকানো যাবে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।
৪৭০০ বার কাঁপল আইসল্যান্ড, ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে জাগছে আগ্নেয়গিরি
দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ডাগু অঞ্চলের হিমবাহ নিয়ে উদ্বেগে বিজ্ঞানীরা। গত কয়েক বছরে ডাগু হিমবাহের অনেকটাই গলে গেছে। আগামী কয়েক বছরে হিমবাহ কতটা বেঁচে থাকবে সেই নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। চার দিক থেকেই অশনি সঙ্কেত! আসছে ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের খবর! শুধুই যে হিন্দুকুশ হিমালয় গলে যাচ্ছে তা নয়। গত ৫৫ বছরে সাড়ে ৯ লক্ষ কোটি টনেরও বেশি (৯ হাজার ৬২৫ গিগাটন) বরফ গলে গিয়েছে বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের হিমবাহের, যা সমুদ্রের জলস্তরকে ঠেলে উপরে তুলে দিয়েছে অন্তত ২৭ মিলিমিটার। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কোনও হিমবাহই থাকবে না আগামী শতাব্দীতে।

সিন্ধু ও গঙ্গোত্রীর মতো হিমালয়ের বিশাল বিশাল হিমবাহগুলির প্রায় প্রত্যেকটিই গলে গিয়ে তৈরি করছে সুবিশাল হ্রদ। বরফের চাঁই অদৃশ্য হয়েছে। যার মানেই হল সেইসব হিমশৈল গলে সমুদ্রে মিশে গেছে। যার ফলে সমুদ্রের জলস্তরও বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফ গলার হার যত বাড়বে, তত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা। আর তত দ্রুত গতিতে গলতে থাকবে বরফ। ভয়াবহ অবস্থা ভারত, নেপাল, চিন-সহ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির প্রত্যেকটি বড় হিমবাহের। সকলেরই বরফ গলে যাচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত হারে।