
শেষ আপডেট: 23 April 2023 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার খলিস্তানি নেতা অমৃতপাল সিংকে (Amritpal Singh) গ্রেফতারের পর কালক্ষেপ না করে বিশেষ বিমানে বিজেপি শাসিত অসমের ডিব্রুগড় জেলে (Dibrugarh Jail) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে অমৃতপালের ধৃত সমর্থকদেরও ওই জেলে নিয়ে রাখা হয়।
৩৭ দিন আগে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার পর পরই জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সি অমৃতপালদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছিল। ওই আইন বলে দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির মধ্যে একমাত্র এনআইএ (NIA) ধৃতদের কোন জেলে রাখা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাকি এজেন্সিগুলির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আদালত।
অমৃতপালদের পাঞ্জাবের জেলে না রাখার প্রধান কারণ, আম আদমি পার্টির সরকার পরিচালিত ওই রাজ্যের জেলগুলিতে কারারক্ষী ও পুলিশের মধ্যে খলিস্তানপন্থী লোকজন থাকা অসম্ভব নয়। ফলে জেল পালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় যায় না। আরও নানা অঘটনের কথা বিবেচনায় রেখে অমৃতপালদের পাঞ্জাবের কোনও জেলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।
প্রশ্ন হল, অদূরে দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশে হাফ ডজনের বেশি জেলখানা থাকতে কেন ডিব্রুগড় নিয়ে যাওয়া হল। দিল্লির তিহাড় জেলকে বলা হয় সবচেয়ে সুরক্ষিত জেলগুলির একটি। অমৃতপালদের জন্য সেই জেলকেও নিরাপদ মনে করেনি এনআইএ। কারণ, দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের জেলগুলিতে পাঞ্জাবের অনেক অপরাধী বন্দি আছে। তাদের মধ্যে খলিস্তানপন্থীরা সক্রিয় কিনা সে ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিশ্চিত নয়।
তাছাড়া, দেশের বেশিরভাগ জেলেই বন্দির সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি, যা নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেদিক থেকে ডিব্রুগড় জেলের সুবিধা হল সেটি দেশের কতিপয় জেলের একটি যেখানে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় বন্দি কম। এই ধরনের জেল থেকে পালানোর সুযোগ কম।
ওই জেলে ৬৮০জন বন্দিকে রাখার ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে আছে ৪৩০জন। উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন এই জেলটিতে সিসি ক্যামেরার নজরদারি বেশ ভাল। তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর আগে উলফা জঙ্গিদের এই জেলে রাখা হত। সেই কারণে প্রথম থেকেই জেলটির নিরাপত্তা যথেষ্ট উন্নত। উত্তরপূর্বের অন্যান্য রাজ্যেও ধৃত জঙ্গিদের ওই জেলেই পাঠানো হত আদালতের অনুমতি নিয়ে। বর্তমানে দাগি অপরাধী সেখানে নেই বললেই চলে।
প্রশ্ন হল, মামলার শুনানি কীভাবে হবে? অমৃতপাল-সহ ধৃতদের পরিবারকে কি ডিব্রুগড়ের আদালতে যেতে হবে শুনানির জন্য? সরকারি সূত্র এই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট করেনি। তবে পাঞ্জাবের আদালত থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ায় অমৃতপালদের জামিনের আবেদন করার সুযোগ নেই। শুনানি শুরু হবে এনআইএ চার্জশিট জমা করার পর।
বিপদের দিনে দল পাশে নেই, তৃণমূল বিধায়ক তাপসের গলায় অভিমানের সুর