
শেষ আপডেট: 22 August 2022 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধী এখনই আর কংগ্রেস সভপতির (Congress President) দায়িত্ব নিতে চাইছেন না—গত সপ্তাহেই লেখা হয়েছিল দ্য ওয়াল-এ। লেখা হয়েছিল দুটি বিকল্পের কথাও। তাঁর একটি হল, গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও নেতাকে সভাপতি পদে বেছে নেওয়া। আর একটি হল, অসুস্থ সনিয়া গান্ধীকেই (Sonia Gandhi) সভাপতি পদে রেখে গান্ধী পরিবারের আস্থাভাজন দু’জন নেতাকে কার্যকরী সভাপতি করা।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) শেষ পর্যন্ত রাজি করানো না গেলে দ্বিতীয় বিকল্পটি নিয়ে বেশি আগ্রহী গান্ধী পরিবারের আস্থাভাজন নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে এই মুহূর্তে সভাপতি পদে মেনে নেওয়া সহজ হবে না দলের বড় অংশের কাছে। নরসিংহ রাও এবং সীতারাম কেশরীরা সভাপতি থাকাকালীন সনিয়া কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্য পর্যন্ত ছিলেন না। আবার সদস্য পদ পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সভাপতির চেয়ারে বসেন কেশরীকে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে। ১৯৯৮ থেকে ২০২২—এই ২৪ বছর টানা গান্ধী পরিবারই কংগ্রেসের অভিভাবক।

আর এই তথ্য তুলে ধরেই বিজেপি ‘কংগ্রেস মানে গান্ধী পরিবার’ বলে কটাক্ষ করে আসছে। পরিবারবাদ নিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দলকে বিঁধছে। বিজেপির বক্তব্য, এই ২৪ বছরে কুশাভাও ঠাকরে থেকে জেপি নাড্ডা, মোট নয়জন সভাপতি হয়েছে। সেখানে কংগ্রেসের মাত্র দু’জন সভাপতি হয়েছেন, সনিয়া ও রাহুল। দু’জনই গান্ধী পরিবারের সদস্য।
দু’টি লোকসভা ভোটে হার, রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতাদের মধ্যে সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন নেই, যা আছে রাহুলকে নিয়ে। কিন্তু সনিয়ার বিকল্প হিসাবে তাঁদের বেশিরভাগের পছন্দ আবার রাহুলই। সব মিলিয়ে গান্ধী পরিবারের প্রতি আস্থার প্রশ্নে কংগ্রেসের সিংহভাগ একজোট।
সনিয়াকে সভাপতি পদে রেখে দিয়ে কাদের কার্যকরী সভাপতি করা যেতে পারে? দক্ষিণ এবং উত্তর ও মধ্য ভারত থেকে দু’জনকে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় আছে। দক্ষিণ থেকে তালিকায় আছে তিনটি নাম—কেরলের কেসি বেণুগোপাল, রমেশ চেন্নিথালা এবং কর্নাটকের মল্লিকার্জুন খাড়গে। উত্তর ও মধ্য ভারত থেকে বিবেচনায় আছেন অশোক গেহলট, অম্বিকা সোনি, কুমারি শৈলজা, মুকুল ওয়াসনিক, সচিন পাইলট প্রমুখ। এঁদের মধ্যে গেহলট, অম্বিকা, মুকুল, শৈলজা এবং বেণু গোপাল ও খাড়গের নাম সভাপতি পদের জন্য বিবেচনায় আছে। যদি সনিয়াও আর সভাপতি পদে থাকতে না চান, তাহলে এঁদের মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়া হতে পারে।

সনিয়াকে সভাপতি পদে রেখে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি হল, গান্ধী পরিবারের প্রতি দলের কর্মী সমর্থকদের আস্থা। তবে সনিয়া বা রাহুল পাকাপাকিভাবে সভাপতি হলে ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার সম্পত্তি হাত বদলে অনিয়ম নিয়ে তদন্তের পরিণতি কোন দিকে গড়াবে সেই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে কংগ্রেসকে।
জেএনইউতে রণক্ষেত্র! নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ পড়ুয়াদের, আহত বেশ কয়েকজন