দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারই বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের সাফল্য দাবি করেছে রাশিয়া। আর বুধবারই ভারতে ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবেন তা নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল (ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অফ ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকেই ভ্যাকসিন বিতরণ ও স্টক তৈরির গাইডলাইন তৈরি করা হবে। বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পাল। শুধু ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ঠিক করাই নয়, কীভাবে ভ্যাকসিন স্টক করা হবে এবং দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া হবে তাও ঠিক করবে এই বিশেষজ্ঞ দল।
রাশিয়া সবার আগে ঘোষণা করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। ভারতেও একাধিক ভ্যাকসিন ট্রায়াল পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। কিন্তু কোন ভ্যাকসিনে ভারত সিলমোহর দেবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অফ ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের। বুধবারের বৈঠক প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এই বিশেষজ্ঞ দলই ঠিক করবে কোন ভ্যাকসিনটি ব্যবহার যথার্থ হবে। এর পাশাপাশি এর বিতরণ কীভাবে হবে এবং কারা অগ্রাধিকার পাবেন সেটাও ঠিক করবেন এই কেন্দ্রীয় দলের বিশেষজ্ঞরা।" ভ্যাকসিনের জন্য আর্থিক যোগান, ভ্যাকসিন সংগ্রহ এবং তা সর্বত্র সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে। এর জন্য কেন্দ্রীয় এই বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলবে বলেও জানিয়েছেন রাজেশ ভূষণ।
ভ্যাকসিন এসে গেলেই একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরি যে কী ভাবে তা সরবরাহ করা হবে। কারা ভ্যাকসিনের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। কারণ, শুরুতেই সকলের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি করা বা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। রাশিয়া যেমন আগেই জানিয়ে রেখেছে, সবার আগে সে দেশে কোভিড যোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এর পরে কাদের ঝুঁকি বেশি সেই হিসেবে ঠিক করা হবে অগ্রাধিকার। ভারতও এবার সেটা ঠিক করে ফেলতে চাইছে। আর সেটাই মুখ্য বিষয় হবে এদিনের বৈঠকে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য যে 'কোল্ড চেন' প্রয়োজন হয় তা নিয়েও আলোচনা হবে।
এদিনই রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ নিয়ে বিশ্বের কুড়িটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। আর সেই কুড়ি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারতও। এবার ভারতে ওই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের পাশাপাশি উৎপাদনও হবে বলে দাবি রাশিয়ার। বলা হয়েছে, এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হবে আগ্রহী দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ব্রাজিল, ফিলিপিন্স এবং ভারতে। এর পরে শুরু হবে উৎপাদন। তাতেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হাত মেলাবে রাশিয়া। আর সেই তালিকাতেও ভারত রয়েছে। ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং কিউবায় ‘স্পুটনিক ভি’ উৎপাদন হবে বলে দাবি করা হয়েছে রুশ সরকারের বিবৃতিতে। রাশিয়ার লক্ষ্য, ২০২০ সালের মধ্যেই ২০ কোটি ডোজ উৎপাদন। এর মধ্যে শুধু রাশিয়ার জন্য ৩ কোটি ডোজ।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভারতের পক্ষে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এদিনের বৈঠকে সেই বিষয়ে আলোচনা হবে কিনা সেটাও স্পষ্ট নয়। তবে জানা গিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে কী বলে তার দিকেই আপাতত তাকিয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (আইসিএমআর)।