দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওমিক্রন রুখতে কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ জরুরি বলে মনে হলেও, এখনই তা আবশ্যক কিনা তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই এখনই যেন কোনও ধনী দেশ অতিরিক্ত পরিমাণে টিকা মজুত করা শুরু না করে। এতে কাজের কাজ কিছু হবে না, বরং পিছিয়ে থাকা দেশগুলিতে ভ্যাকসিনের সংকট তৈরি হবে। বৃহস্পতিবার এ কথাই বলে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ হু।
হু-এর ভ্যাকসিন-প্রধান কেট ও'ব্রায়েন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, "ওমিক্রনের সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। বাড়ছে ঝুঁকিও। এখন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ধনী দেশগুলি তাঁদের দেশের মানুষদের কথা আগে ভাববে, তাই বুস্টার ডোজের জন্য তারা অনেক ভ্যাকসিন মজুত করে ফেলবে। কিন্তু এটা কার্যত বাড়াবাড়ি।"
বুধবারই ফাইজার-বায়োটেকের গবেষণা রিপোর্ট বলেছিল, ওমিক্রন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য তাদের ভ্যাকসিনের তিনটি ডোজ বেশি কার্যকর হতে পারে। এর পরেই হু-এর তরফে সতর্ক করা হল বিষয়টি নিয়ে।
কেট ও'ব্রায়েন বলেন, "ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সমস্ত ডেটা হু পরীক্ষা করে দেখছে। এটি এখনও ক্লিনিক্যালি প্রমাণ হয়নি যে বুস্টার ডোজ ওমিক্রন ঠেকাতে অতিরিক্ত ভূমিকা পালন করবে কিনা। এটা বলার সময়ে আসেনি এখনও।"
প্রসঙ্গত, করোনার ওমিক্রন স্ট্রেন আসার বহু আগেই একাধিক দেশ বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে দিয়েছিল। মূলত প্রবীণ বা অসুস্থতায় দুর্বল ব্যক্তিদের আগে তৃতীয় ডোজ নেওয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এ সব দেশে। এটি প্রথম শুরু করে ব্রিটেন ও ইজরায়েল। সে সময়েও এর তীব্র সমালোচনা করেছিল হু। টিকার অসমবণ্টন নিয়েও অভিযোগ জানায় তারা। বলে, বিশ্বের একাংশ যখন টিকাহীন অবস্থায় রয়েছে, তখন ধনী দেশগুলো কেন তৃতীয় ডোজ় দেওয়া শুরু করছে।
এখন ওমিক্রন এসে যাওয়ার পরে এই সমস্যা আরও গুরুতর হবে বলেই মনে করছে হু।
পরিসংখ্যান বলছে, দরিদ্র দেশগুলির বহু মানুষ এখনও টিকার একটি ডোজও পাননি। এমনকি অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও আছেন এই তালিকায়। তাঁরা এখনও ঝুঁকির মুখে। হু-এর কথায়, মাত্র মাস দুয়েক হল, ভ্যাকসিনের এই অসাম্য খানিকটা দূর হয়েছে, অনুন্নত দেশগুলিতে ভ্যাকসিন পৌঁছচ্ছে। তার মধ্যেই বুস্টার ডোজ নিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু হলে সেটা আবার থমকে যাবে বলে আশঙ্কা। এতে মহামারীর মেয়াদ আরও বাড়বে বই কমবে না, জানিয়েছেন কেট ও'ব্রায়েন।
তাঁর কথায়, "প্যানডেমিক নিয়ে একটি সামগ্রিক ধারণা থেকে ভ্যাকসিনেশনের কাজ করা দরকার। শুধুই সংক্রমণ এবং তার আতঙ্ক নিয়ে যদি মহামারীর সঙ্গে লড়া হয়, তবে তা কাজ করবে না। তাই সমস্ত দেশে আগে ভ্যাকসিন পৌঁছনো জরুরি।