
শেষ আপডেট: 7 July 2023 06:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতা বিশ্বনাথন পেরুমলকে (Viswanathan Perumal) গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশ। সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের সম্পাদক তামিলনাড়ুর এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি সম্প্রতি স্বপ্না সুরেশকে (Swapna Suresh) কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের (Pinarayi Vijayan) ‘গার্লফ্রেন্ড’ বলেছেন। কেরলের কান্নুর জেলার পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর সম্মানহানির অভিযোগে বিশ্বনাথনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে। তামিল কংগ্রেস নেতা কেরলের কান্নুরে প্রকাশ্য সভায় মুখ্যমন্ত্রী ও স্বপ্নার সম্পর্ক জড়িয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন।
গ্রেফতার হওয়ার আগে থেকেই তিনি দাবি করে আসছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই (Pinarayi Vijayan) ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক আছে।
প্রসঙ্গত, বিজয়নের প্রাইভেট সেক্রেটারি সিএম বিজয়নের নামও সোনা পাচার মামলায় জড়ায়। বিদেশি মুদ্রা লেনদেনে অনিয়মের মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গত বছর জেরা করে রবীন্দ্রনকে। রাজ্য সরকারের কল্যাণ প্রকল্প লাইফ মিশনের জন্য পাওয়া বিদেশি অনুদানের অর্থ নয়ছয় এবং বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে ওই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
সোনা পাচার মামলাটি তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর। তিরুবনন্তপুরমের সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সোনা পাচারের মামলায় মূল অভিযুক্ত স্বপ্না সুরেশের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পেয়ে সিবিআই এবং ইডি গত বছরই সক্রিয় হয়। অভিযুক্ত স্বপ্না সোনা পাচার মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের পদস্থ আমলাদের যুক্ত থাকার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। প্রথম থেকেই কংগ্রেস এই ইস্যুতে সিপিএম সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। একাধিক কংগ্রেস নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
তদন্তে সিবিআই বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট উদ্ধার করে। তাতে জানা গিয়েছে রবীন্দ্রনের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ ছিল স্বপ্না সুরেশের। প্রসঙ্গত, লাইফ লাইন মিশন প্রকল্পে অনিয়মের মামলায় আগেই মুখ্যমন্ত্রী পিনারাইয়ের এক প্রাক্তন সচিব এম শিবশঙ্করকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
কেরলে গৃহহীনদের পাকা বাড়ি বানিয়ে দিতে লাইফ মিশন নামে একটি প্রকল্প চালু আছে। সেই প্রকল্পে ত্রিশূরে গৃহহীনদের জন্য ১৪০টি আবাস তৈরির লক্ষ্যে রেড ক্রিশেন্ট নামে একটি অলাভজনক সংস্থা কেরলের সৌদি কনস্যুলেট মারফত সাড়ে ১৪ কোটি টাকা দিয়েছিল। সেই টাকার মধ্যে চার কোটি চার লাখ টাকা একাধিক প্রভাবশালীর পকেটে গিয়েছে বলে অভিযোগ। অনিয়মের ওই ঘটনায় আগেই গ্রেফতার করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের দুই অফিসার স্বপ্না সুরেশ এবং পিএস সারিথকে। তাঁদের বয়ানের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে শিবশঙ্করকে।
বিজেপি ও কংগ্রেস আগেই দাবি তোলে মুখ্যমন্ত্রীকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। এই অভিযোগের তদন্ত অবশ্য রাজ্য সরকারের নির্দেশেই শুরু হয়েছিল। বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকায় ইডিও সমান্তরাল তদন্ত শুরু করে।
লক্ষণীয় হল, এই সব মামলা নিয়ে একটা সময় নিয়মিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বিগত কয়েক মাস যাবৎ চুপ করে গিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, রাজ্যপালের তৎপরতায় কংগ্রেসের লাভ হচ্ছে বুঝতে পেরে তাঁকে চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, স্বপ্না সুরেশ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে কুকথার বন্যা বইয়ে দিলেও কেরল পুলিশ হাত গুটিয়ে আছে। কংগ্রেস বলে আসছে, স্বপ্নার সঙ্গে সরাসরি পিনারাইয়ের যোগ ছিল। সেই অভিযোগের কথা বলতে গিয়েই স্বপ্নাকে পিনারাইয়ের 'গার্ল ফ্রেন্ড' বলে বিপাকে পড়েছেন পড়শি রাজ্যের কংগ্রেস নেতা।
বিজেপির কাছে ‘পরীক্ষায় ফেল’, আপাতত ‘উপ’ তকমা ঘুঁচছে না অজিতের