
দিলীপ ও রিঙ্কু।
শেষ আপডেট: 17 April 2025 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'নাড়ু সারাজীবন লোকের জন্য কাজ করেছে, ওর জন্য কেউ কিছু করেনি, ওকে কে দেখবে?' এমনই পণ ধরে বসেছিলেন পুষ্পলতা ঘোষ। তিনি দিলীপ ঘোষের মা। ছেলেকে এই নামেই ডাকেন তিনি। নাড়ু। তাঁর আদরের নাড়ু শেষ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে, ছেলের চিন্তা যেন আরও বেড়েছে বৃদ্ধার। সেই চিন্তার জেরেই ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে সোজা নিউটাউনে এসে উঠেছেন তিনি, দিলীপ ঘোষের ফ্ল্যাটে। সঙ্গেই থাকেন, যথাসাধ্য দেখে রাখেন ছেলেকে। তাঁরই 'বায়নায়' এবং তাঁকেই দেখাশোনার জন্য নাকি শেষমেশ বিয়েতে রাজি হয়েছেন দিলীপ ঘোষ!
এমনটাই বলছেন দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন সাংবাদিক। আগামী কাল, শুক্রবার দিলীপদার বিয়েতে সাক্ষীও হচ্ছেন তিনি। জানালেন, পাত্রী রিঙ্কু মজুমদারও নিউটাউনেরই বাসিন্দা, বহুদিন ধরেই বিজেপি করেন। পার্টির কাজের সূত্রেই দিলীপবাবুর বাড়িতে আসা-যাওয়া আছে তাঁর। স্বামী মারা গেছেন আগেই। একমাত্র ছেলে সৃঞ্জয় দাশগুপ্ত আইটি কর্মী, তিনিও বিজেপি করেন।
সুন্দরবনের একটি এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত রিঙ্কু। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজও করেন তিনি। এহেন রিঙ্কুকেই নাকি ভারী পছন্দ হয়ে যায় পুষ্পলতা দেবীর। আর মায়ের কথাও ফেলতে পারেননি তাঁর নাড়ু তথা দিলীপ।
তাহলে কি পরিণয়ের আগে প্রণয় পর্ব একেবারেই ছিল না? নিছকই মায়ের পছন্দে বিয়ে? তেমনটাও যে পুরোপুরি সত্যি, তা হয়তো নয়। অনুরাগ ঘনিয়েছিল বই কী। তবে তা থেকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর তেমন কোনও পরিকল্পনা তাঁদের ছিল না বলেই জানা যাচ্ছে। শেষমেশ চারহাত এক করেই ফেলল, মায়ের উদ্বেগ, ভালবাসা, ইচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কুণাল ঘোষের পরপর দু’টি টুইট দেখে জল্পনা ঘনিয়ে ওঠে, দিলীপ ঘোষের নাকি বিয়ে! প্রাথমিকভাবে অনেকেই মনে করেন, এটা বোধহয় নিছকই কোনও মশকরা, বিরোধী দলের নেতারা যেমনটা করে থাকেন হামেশাই। তবে কুণাল ঘোষকে ফোন করতেই পরিষ্কার হয় বিষয়টি। ‘দ্য ওয়াল’কে তিনি বলেন, ‘আগামী কাল অর্থাৎ শুক্রবারই ঘরোয়াভাবে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করছেন দিলীপ ঘোষ। পাত্রীর নাম রিঙ্কু মজুমদার। তিনি দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি নেত্রী।’
শোনা যাচ্ছে, এই বিয়ে নিয়ে নাকি আপত্তি রয়েছে আরএসএস-এ এবং বিজেপির অন্দরে। এমনকি দলের নিয়মও রয়েছে, সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে বিয়ে করার নিয়ম নেই। কিন্তু দলীয় নিয়ম মতেই, যখন কেউ বেতন পান, তখন আর তিনি প্রচারক থাকেন না। ফলে যখন থেকে দিলীপ ঘোষ জনপ্রতিনিধি হয়ে বিধায়ক বা সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই তিনি আর প্রচারক নন। ফলে দিলীপ ঘোষ যে সঙ্ঘের নিয়ম ভেঙে বিয়ে করছেন, তা সত্য নয়।
এখন এই বিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার।