
শেষ আপডেট: 18 April 2024 19:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: এখন চেয়ারম্যানের কুর্সি নিয়ে জট কাটল না ঝালদায়। কে সেই পদে স্থায়ী ভাবে বসবেন, তা নিয়ে শাসকদলের অন্তর্ধাত প্রকাশ্য চলে এসেছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এতটাই চরমে উঠেছে যে শাসকদলের নেতা-নেত্রীরাই একে অপরের দিকে অভিযোগ তুলছেন। একদল তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে ফ্লেক্স ফেস্টুন টাঙালে শহর-সভাপতির নির্দেশে তা খুলে ফেলতে হচ্ছে। নিজেদের বিরোধের জেরে এখন পর্যন্ত ঝালদা শহর তৃণমূল নির্বাচন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে এতটাই তাঁরা ব্যস্ত, যে শিকেয় উঠেছে নির্বাচনী প্রচার, পুর পরিষেবা।
২০২২ এর এপ্রিল মাস থেকে ঝালদা পুরসভায় দোলাচল চলছে। হাইকোর্টের মামলা চলার পরেও কাটেনি সেই জট। গত দু বছরে ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান বদল হয়েছে সাতবার। মোট পাঁচজন এই দুবছরে চেয়ারম্যানের কুর্সিতে বসেছেন। বিরোধীরা নয়, শাসকদলের কাউন্সিলররাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব করে নিজের দলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পুরসভার জট কাটাতে বারে বারে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টকে। এক পক্ষ অভিযোগ তুলছে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে। লাটে উঠেছে উন্নয়ন, লাটে উঠেছে পুর পরিষেবা, লাটে উঠেছে দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর কর্মসূচি।
একদল বলছে দলে "অসহায় আমরা"। বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং শহর তৃণমূল সভাপতি। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে স্বীকার করে নিয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান শীলা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্বীকারোক্তি, "এই সমস্যার ছাপ লোকসভা নির্বাচনে পড়বে।"
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এখনও পর্যন্ত ঝালদা শহর তৃণমূল নির্বাচন পরিচালন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। মিটিং ডাকলেও সে সভা তড়িঘড়ি শেষ করতে বাধ্য হন দলীয় নেতৃত্ব। এক পক্ষ তুলছেন অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। অন্য দল নয় নিজের দলের লোকেরাই দলের ক্ষতি করছে বলে দাবি একপক্ষের।
নির্বাচনের আর এক মাস দশ দিন বাকি আছে। দলে শুরু হয়েছে আদি নব্য দ্বন্দ্ব। উঠে আসছে দলবদলের রাজনীতি। ক্ষমতা দখলের জন্য অন্য দল বানিয়ে নিজের দলে যোগ দেওয়া কাউন্সিলরদেরই মানতে নারাজ একপক্ষ। শহর সভাপতির যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল। নির্দল হয়ে জিতে যাঁরা এখন শাসকদলের ঝান্ডা ধরেছেন তাঁদের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
সুরেশবাবুর দাবি, দলীয় নেতা হিসাবে যোগদান কর্মসূচী হচ্ছে সে কথা জানার অধিকার তাঁদের রয়েছে। কিন্তু শীলা চট্টোপাধ্যায়ের যোগদান নিয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তবে ঝলদা পুরসভার পরিস্থিতি কেন অচলাবস্থায় পড়ে রয়েছে সেটা দলীয় উপর তলার নেতৃত্বই বলতে পারবে।