
সুপ্রতীম সরকার।
শেষ আপডেট: 13 February 2025 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে প্রতারণার ধরনও। সাম্প্রতিক সময়ে এরকমই আড়াইশোটির বেশি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বাংলার বহু মানুষ। ওই ঘটনায় টানা এক মাস তদন্তে চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে এক সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার বলেন, সম্প্রতি রাজ্যে কয়েকশো সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে নেমে আমরা দেখি, পশ্চিমাঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকেই সাইবার প্রতারণার অভিযোগ আসছে। সেই সূত্রে টানা ১ মাস তদন্ত চালিয়ে ৪৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এডিজি জানান, সাইবার জালিয়াতির নেপথ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া গ্যাং। এরা মূলত ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এরাজ্যের বীরভূম, আসানসোল, চন্দননগর, পূর্ব বর্ধমান ও হুগলির একাংশে ঘাঁটি গেড়ে এই প্রতারণা চালাচ্ছিল।
কীভাবে অপরাধীদের হদিশ পেল পুলিশ? এডিজি জানান, সাইবার ক্রাইমের দক্ষ অফিসারদের নিয়ে অপারেশন সাইবার শক্তি গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই টিমের সদস্যরা টানা ১ মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে গোপনভাবে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তারই ভিত্তিতে ১৫ দিন আগে বীরভূমের খয়রাশোল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয। ধৃতদের জেরা করে একে একে চক্রের বাকিদের গ্রেফতার হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ৮৪টি ফোন, ৮৪টি সিমকার্ড, ২টি ল্যাপটপ, শ'খানেকের বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার ও ভোটার কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
কীভাবে প্রতারণা করা হত? গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নামী সংস্থার নাম ভাঁড়িয়ে এরা গ্রাহকদের মেসেজে টোপ দিত। সেই মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করলেই প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন গ্রাহক। একইভাবে কাউকে গ্যাসে ভর্তুকি দেওয়ার নাম করে মেসেজ পাঠিয়েও লিঙ্কের মাধ্যমে প্রতারণা করত। গোয়েন্দাদের পরামর্শ, অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করার আগে ভাল করে যাচাই করে নিন। যাতে সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে না পড়েন।