
শেষ আপডেট: 25 January 2024 22:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় চাকরি বিক্রির টাকায় প্রোমোটিং ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির। ইডি সূত্রের দাবি, পার্থ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার রাজীব দে'কে জেরা করেই চাঞ্চল্যকর এই তথ্য মিলেছে। এমনকী কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এ ব্যাপারে লিখিত বয়ানও দিয়েছেন তিনি।
এবার পার্থর বাড়িতে কারা কারা আসতেন, তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে তা বিস্তারিত জানালেন পার্থ ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। অন্যদিকে তদন্তকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিধাননগর পুরসভার আর এক তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীও।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার দেবরাজ ও বাপ্পাদিত্যকে এদ্দািন নিজাম প্যালেসে তলব করেছিল সিবিআই। বেলা ১১টার আগেই নিজামে পৌঁছে যান তাঁরা। ম্যারাথন জেরা শেষে সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ বাইরে আসেন তাঁরা।
বিধায়ক তথা শিল্পী অদিতি মুন্সীর স্বামীও দেবরাজ। জেরার পর বাইরে এসে তিনি বলেন, "কিছু তথ্য চেয়েছিল। সেগুলো নিয়ে এসেছিলাম। ৩১ জানুয়ারি ওরা ফের ডেকেছেন। আবারও কিছু ক্লারিফিকেশন চেয়েছেন। সেগুলোও নিশ্চয়ই দেব। তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করব।"
আর বাপ্পাদিত্য বলেন, " পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে কে কে আসতেন, সেটা তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছিলেন। আমি যা যা জানি সব বলেছি।"
রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। পাঁচ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে তাঁর বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় সিবিআই। সেই সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য উদ্ধার করা হয়েছিল বলে আগে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছিল।
যদিও বাপ্পাদিত্য এদিন বলেন, "১০ শতাংশ কাগজ ছিল আমার আইটি রিটার্নের। ১০ ভাগের কিছু কম অ্যাডমিট কার্ড, বাকি সবই বায়োডেটা ছিল। এর সঙ্গে নিয়োগ দুর্নাীতির কোনও সম্পর্ক নেই।" তদন্তের স্বার্থে যতবার ডাকা হবে ততবারই তিনি হাজিরা দেবেন বলেও জানান।
সিবিআই সূত্রে খবর, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতিতে একাধিক তথ্য ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে তাঁদের হতে। কিছু নথি তাঁদের বাড়ি থেকেও পাওয়া গিয়েছিল। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে দুই তৃণমূল কাউন্সিলরকে আরও জিজ্ঞাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেই কারণে আজকে দুই কাউন্সিলরকে নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল।