দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থনে টুলকিট তৈরি করেছিলেন ভারতের সমাজকর্মী দিশা রবি। সেই টুলকিট শেয়ার করেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের সঙ্গে। বেঙ্গালুরু থেকে দিশা রবিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত সোমবার বলেন, ভারত যখন সারা বিশ্বের জন্য পিপিই কিট তৈরি করছে তখন কেউ কেউ বানাচ্ছে টুলকিট। খুবই লজ্জার বিষয়! একইসঙ্গে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাঁরা টুলকিট বানিয়েছেন, তাঁরা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। খলিস্তানিদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আছে।
অনেকেই বলেছিলেন, দিশা রবি নেহাৎ কমবয়সী। তাঁকে গ্রেফতার করা ঠিক হয়নি। তার জবাবে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী শেখাওয়াত বলেন, বয়সের কথাই যদি বিবেচনা করতে হয়, তাহলে আমি লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্ষেত্রপালের কথা বলব। তিনি ২১ বছর বয়সে দেশের জন্য শহিদ হয়েছিলেন। তাঁকে পরমবীর চক্র দেওয়া হয়েছিল। আমি তাঁর জন্য গর্ব অনুভব করি। কোনও টুলকিট প্রপাগান্ডিস্টের জন্য গর্ব করি না।
টুলকিট মামলায় দিশা বাদে অপর দুই অভিযুক্ত হলেন নিকিতা জ্যাকব ও শান্তনু মুলুক। নিকিতা জ্যাকব ইতিমধ্যে বম্বে হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছেন যাতে তাঁকে চার সপ্তাহ গ্রেফতার না করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পুনিত নামে এক কানাডাবাসী মহিলা দিশা রবি, নিকিতা জ্যাকব ও শান্তনুর সঙ্গে পোয়েটিক জাস্টিস নামে একটি সংগঠনের পরিচয় করিয়ে দেয়। ১১ জানুয়ারি তাঁরা জুম কলের মাধ্যমে বৈঠক করেন। পুলিশের বক্তব্য, দিশা রবির মোবাইল থেকে যথেষ্ট আপত্তিকর তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। দিশা, নিকিতা ও শান্তনু যৌথভাবে টুলকিট তৈরি করেছিলেন। ওই টুলকিট তাঁরা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেন। শান্তনুর ই-মেল অ্যাকাউন্ট টুলকিট গুগল ডক-এর মালিক।
রবিবার দিশাকে দিল্লির একটি আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর হয়ে লড়ার জন্য কোনও আইনজীবী পাওয়া যায়নি। আদালতে দাঁড়িয়ে দিশা জানান, তিনি ওই টুলকিট তৈরি করেননি। তিনি শুধুমাত্র কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে নিজের মত রাখতে গিয়ে ওই টুলকিট ব্যবহার করেছিলেন।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বিরোধীদের কাছ থেকে। কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, পি চিদম্বরম, শশী থারুর, শিবসেনার প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদি, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি প্রমুখ নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই সমস্ত কাজ করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। যাঁরা সমাজের কাজ করছেন, যাঁরা সত্যি বলার চেষ্টা করছেন, তাঁদের আওয়াজ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দিনে যাতে কেউ আর সরকার বিরোধী মন্তব্য না করতে পারে তার জন্য আগে থেকেই ভয় দেখিয়ে রাখা হচ্ছে। দেশের গণতন্ত্রকে নষ্ট করার চেষ্টা মোদী সরকার করছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, সমাজকর্মী, শিল্পী, কবি ও সমাজের নানা স্তর থেকে প্রতিবাদ হয়েছে এই ঘটনার।