দ্য ওয়াল ব্যুরো : ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় খোদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল। পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিরণ বেদী রবিবার নিজেই নামলেন রাস্তায়। জাতীয় পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের প্রচার চালালেন দীর্ঘক্ষণ। ব্যস্ত রাস্তায় হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হেলমেট পরেননি কেন? একইসঙ্গে পুদুচেরি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামীকে দোষ দিয়ে বললেন, তাঁদের জন্যই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পথ নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা যাচ্ছে না।
তিনি টুইটারে লিখেছেন, পুদুচেরির মানুষ হেলমেট পরতে অভ্যস্ত নয়। হেলমেট না পরার জন্য তিন দিন অন্তর প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে বাধা দিচ্ছেন।
https://twitter.com/thekiranbedi/status/1094639539946086400
টুইটারে কিরণ বেদী একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাতে দেখা যায়, একটি বাইককে তিনি থামালেন। তাতে আরোহী ছিলেন চারজন। চালক, তাঁর স্ত্রী, তাঁদের দুই ছোট ছেলেমেয়ে। মেয়েটি বসেছে বাইকের পিছনে। ছেলেটি রয়েছে চালকের সামনে। কারও মাথায় হেলমেট নেই। কিরণ বেদী বাইক চালককে বলছেন, আপনারা সকলেই বিপদে পড়বেন।
কিরণ বেদী একসময় আইপিএস অফিসার ছিলেন। রাজধানী দিল্লির ট্রাফিকের চার্জে ছিলেন তিনি। তখন কড়া পুলিশ অফিসার বলে তাঁর খ্যাতি ছিল।
পুদুচেরির ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আগেও তিনি সরব হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে তিনি এক প্রাইভেট গাড়িতে চড়ে রাজ্যের নানা জায়গা ঘুরে দেখেন। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে বেশ কয়েকটি ত্রুটি তাঁর চোখে পড়ে। ট্রাফিক আইন ভাঙার বেশ কয়েকটি ছবিও তোলেন তিনি। পুলিশের উদ্দেশে একটি বার্তায় তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করুন। কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে তিনি নিজের অফিসে ডেকে সতর্ক করেছেন।
পুদুচেরি থেকে ভিল্লুপুরমে যে রাস্তাটি গিয়েছে, রবিবার সেখানেই তিনি পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রচার করেন। রাস্তায় কর্মরত পুলিশ কর্মীদের তিনি বলেন, লক্ষ রাখুন, কেউ যেন ট্রাফিক আইন না ভাঙে। একটি অটোতে বেশি যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি থামান। কয়েকজন যাত্রীকে নামতে বাধ্য করেন।
পুদুচেরি সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে কিরণ বেদীর। তিনি ট্রাফিক আইন ছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তিনি নানা জনকল্যাণমূলক কাজ অনুমোদন করছেন না। নির্বাচিত সরকারকে এড়িয়ে কাজ করতে চাইছেন।