গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ১০০% সুরক্ষিত, প্রতারণা করি না আমরা, সাফাই দিল হোয়াটসঅ্যাপ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলেছিলেন গ্রাহকরাই।
পরিবার বা বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট থেকে গোপন মেসেজ, ভিডিও বা কোনও লিঙ্ক বেহাত হযে যাচ্ছে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আড়ি পেতে গ্রাহকদের ব্যক
শেষ আপডেট: 12 January 2021 08:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলেছিলেন গ্রাহকরাই।
পরিবার বা বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট থেকে গোপন মেসেজ, ভিডিও বা কোনও লিঙ্ক বেহাত হযে যাচ্ছে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আড়ি পেতে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত মেসেজ পড়া হয়, হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও উঠেছিল। এই সব অভিযোগ-অনুযোগ উড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ জানাল, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম কখনও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করবে না। সুরক্ষার সবদিকই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এখানে। গ্রাহকদের যে কোনও ব্যক্তিগত তথ্যই একশো শতাংশ সুরক্ষিত বলেও দাবি করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন প্রাইভেসি পলিসি আনছে এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে নতুন হবে। গ্রাহকদের পই পই করে বলে দেওয়া হয়েছে, এই নতুন পলিসির সবকটি টার্ম অ্যাকসেপ্ট করতেই হবে। না হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আগে নতুন কোনও প্রাইভেসি পলিসি এলে তাতে বাছাই করার অপশন থাকত। গ্রাহকরা না চাইলে, তা এড়িয়ে যেতেও পারতেন। কিন্তু এখন থেকে তা আর হবে না। সুরক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি করছে হোয়াটসঅ্যাপ।
ঝামেলার সূত্রপাত এখানেই। নতুন প্রাইভেসি টার্ম নিয়ে ইতিমধ্যেই কখা রটেছে, হোয়াটসঅ্যাপ নাকি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করছে। এই খবর ছড়াতেই তড়ঘড়ি গ্রাহকদের একটা বড় অংশ হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে সিগন্যাল মেসেজিং অ্যাপে লগইন করে ফেলেছে। টেলিগ্রামে গ্রাহক সংখ্যাও বেড়েছে।
সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাই এবার আসরে নেমেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিতই আছে।
কী কী ব্যাখ্যা দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ--
-
গ্রাহকদের ব্যক্তিগত কোনও মেসেজ পড়ে না হোয়াটসঅ্যাপ। কল করলে তা রেকর্ড করাও হয় না। একই নিয়ম মানে ফেসবুকও।
-
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী যারা মেসেজ ও কল করেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টের তালিকা সুরক্ষিত রাখা হয়।
গ্রাহকদের কোনও কনট্যাক্ট নম্বর ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করা হয় না।
-
মেসেজে কোনও লোকেশন লিখলে তা হোয়াটসঅ্যাপ পড়তে পারে না। গ্রাহকদের অবস্থান কোথায় সে ব্যাপারে নাক গলায় না হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকের সঙ্গেও শেয়ার করা হয় না।
-
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সব মেসেজই গোপন থাকে।
-
গ্রাহকরা চাইলে কোনও মেসেজ লুকিয়ে রাখতে পারেন বা সরিয়ে দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে ‘ডিসঅ্যাপিয়ার’ অপশন আছে।
-
গ্রাহকরা তাঁদের নিজস্ব সব তথ্যই ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
https://twitter.com/WhatsApp/status/1348839600333049857
আসলে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণার ফাঁদ পেতে ওটিপি সহ গোপন নথিপত্রও হাতিয়ে নিচ্ছে হ্যাকাররা, এমন অভিযোগ বারে বারেই উঠেছে। কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নজরদারি চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সুরক্ষায় সামান্য গলদ দেখলেই সেই অ্যাকাউন্টকে টার্গেট করা হচ্ছে। বন্ধু, আত্মীয় পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে মেসেজ আসছে। তারপর বলা হচ্ছে গ্রাহক কোনওভাবে বিপদে পড়তে পারেন। জরুরি অবস্থার জন্য তার থেকে ওটিপি নম্বর জানতে চাওয়া হচ্ছে। এমনকিছু লিঙ্ক বা তথ্য পাঠাচ্ছে হ্যাকাররা যাতে গ্রাহক বিশ্বাস করতে বাধ্য হন। একবার ওটিপি বলে দিলেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাচ্ছে।
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বেহাত হয়ে গেলেই ফোনের কনট্যাক্ট লিস্ট, মেসেজ এবং যাবতীয় জরুরি ও গোপন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে হ্যাকাররা। তারপর গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে তারই চেনা পরিচিত লোকজনদের মেসেজ করে তাদের অ্যাকাউন্টও হ্যাক করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এইভাবে একটা হ্যাকিং চেন শুরু হয়েছে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাখ্যা, সুরক্ষার এইসব ফাটল মেরামত করা হচ্ছে। নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে গ্রাহকদের তথ্য আরও সুরক্ষিত থাকবে। অযথা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বন্ধ করতেও অনুরোধ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।